ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নেলসন ম্যান্ডেলা তার জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন একজন ব্যক্তি ছিলেন। বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের কারণে তাকে। ১৯৬৩-১৯৯০ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর জেলে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশেও এরূপ একজন মহান নেতার জন্ম হয়েছিল যাকে এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনের বেশিরভাগ সময় জেলে কাটাতে হয়েছে। তিনি পাকিস্তান সামরিক সরকারের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক। বৈষম্য থেকে বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ। করেন, যা ইতিহাসে বাঙালির মুক্তির সনদ নামে পরিচিত।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফা কী ছিল?
- খ)(2)
যুক্তফ্রন্ট কেন গঠন করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে বাংলার কোন মহান নেতার জীবনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত নেতার উত্থাপিত প্রস্তাবের পথ ধরে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়- উক্তিটির সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফা ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলিম লীগের স্বৈরাচারী শাসন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং পূর্ব বাংলার প্রতি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের অবসান ঘটাতে পূর্ব বাংলার বিরোধী দলগুলো একত্রিত হয়ে ১৯৫৩ সালের শেষভাগে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে বাঙালির ন্যায্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল যুক্তফ্রন্ট গঠনের মূল উদ্দেশ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের গভীর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ ২৭ বছর জেল খেটেছেন এবং আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির সংগ্রামে জীবনের প্রায় ১৪টি বছর পাকিস্তানি কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবসময় আপসহীন সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন। উদ্দীপকে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে যে প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে, তা বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবিকে নির্দেশ করে। সুতরাং, আত্মত্যাগ ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের দিক থেকে নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপিত ঐতিহাসিক ছয় দফা প্রস্তাবের পথ ধরেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়— উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। এই ছয় দফায় পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের মধ্যে স্বায়ত্তশাসন, পৃথক মুদ্রা বা ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কর আদায়ের ক্ষমতা এবং মিলিশিয়া বা প্যারা-মিলিটারি বাহিনী গঠনের দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি মূলত ছিল বাঙালির স্বাধিকারের সনদ।
ছয় দফার কারণেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে, যার ফলশ্রুতিতে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ঘটে। এই গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। অতএব, ছয় দফাই স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে বাঙালিকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে গিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও