ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    আগরতলা মামলার আসামি কতজন ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইতিহাসে স্মরণীয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সারণিটি পাকিস্তানি আমলের কোন নির্বাচনকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের ইতিহাসে উক্ত নির্বাচনের গুরুত্ব পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আগরতলা মামলার প্রধান আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলেন ৩৫ জন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা। এই ভাষণে তিনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণ-পীড়নের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং সামরিক আইন প্রত্যাহারসহ চারটি পূর্বশর্ত দেন। সর্বোপরি, তিনি "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম" ঘোষণার মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার চূড়ান্ত আহ্বান জানান। এজন্য এই ভাষণটি ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এবং ইউনেস্কো কর্তৃক 'মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার'-এ আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সারণিটি পাকিস্তানি আমলের ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক জাতীয় পরিষদ নির্বাচনকে নির্দেশ করে।

    ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সারণিতে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে ১৬০টি আসন লাভ করে এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পশ্চিম পাকিস্তানে ৮৩টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। এছাড়া পিডিপি পূর্ব পাকিস্তান থেকে ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টি আসন লাভ করে। জাতীয় পরিষদের মোট ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি আসনের এই ফলাফল সুস্পষ্টভাবে ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের চিত্রকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রকাশ: এ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটায় এবং ৬ দফার প্রতি জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়।
    ২. বৈধতার ভিত্তি: নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা লাভ করে এবং প্রমাণিত হয় যে আওয়ামী লীগই ছিল পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল।
    ৩. দ্বি-জাতিতত্ত্বের অসারতা প্রমাণ: নির্বাচনের ফলাফলে পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ব্যবধান প্রকাশ পায় এবং ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের দ্বি-জাতিতত্ত্বের ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।
    ৪. স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমি: নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি জান্তা যখন ষড়যন্ত্র ও কালক্ষেপণ শুরু করে, তখন বাঙালিরা সশস্ত্র সংগ্রামের পথে অগ্রসর হয়।

    সুতরাং, ১৯৭০ সালের নির্বাচনই কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ও নৈতিক শক্তি যুগিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন