ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

সম্রাট হুমায়ুন ছিলেন একজন সরলমনা ও প্রজাবৎসল শাসক। তিনি সবসময় রক্তপাত এড়িয়ে যেতেন। তার এই সরলতার সুযোগ নিয়ে একদল বিপথগামী জনতা তার বিরুদ্ধে কতিপয় অভিযোগ এনে বিদ্রোহ শুরু করে। তিনি এ বিদ্রোহ কঠোরহস্তে দমন না করায় তা। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অবশেষে বিদ্রোহীদের হাতেই তিনি নির্মমভাবে নিহত হন।

  1. ক)

    কাকে 'যুন্নুরাইন' বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    বায়তুল মাল কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সম্রাটের সাথে ইসলামের কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উত্ত খলিফার ওপর আনীত অভিযোগ সম্পর্কে তোমার মতামত যুক্তির আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-কে 'যুন্নুরাইন' বা 'দুই জ্যোতির অধিকারী' বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বায়তুল মাল' হলো ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বা সরকারি কোষাগার।

    রাষ্ট্রের যাবতীয় রাজস্ব যেমন—যাকাত, জিজিয়া, খারাজ, খুমস ও উশর ইত্যাদি বায়তুল মালে জমা হতো। এ কোষাগার থেকে যুদ্ধাহত ও অনাথ-বিধবাদের ভাতা, অসহায়দের সাহায্য, কর্মচারীদের বেতন এবং জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডে অর্থ ব্যয় করা হতো। দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর আমলে এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সম্রাট হুমায়ুনের সাথে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    হযরত উসমান (রা.) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু, কোমল হৃদয়, পরোপকারী এবং রক্তপাতবিমুখ একজন শাসক। উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটের মতোই তিনি প্রজা ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর বলপ্রয়োগ বা রক্তপাত পরিহার করতেন। খলিফার এই অসীম সরলতা ও উদারতার সুযোগ নিয়ে আব্দুল্লাহ বিন সাবার প্ররোচনায় একদল বিদ্রোহী খলিফার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে।

    তিনি মদিনাবাসীকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নিষেধ করেন, কারণ তিনি মহানবি (সা.)-এর পবিত্র মদিনা নগরীতে কোনো ধরনের মুসলিম রক্তপাত ঘটাতে চাননি। পরিণতিতে বিদ্রোহীরা তার বাড়ি অবরোধ করে এবং অবশেষে অত্যন্ত নির্মমভাবে তাঁকে কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় হত্যা করে। উদ্দীপকের সম্রাটের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও করুণ পরিণতির সাথে খলিফা উসমান (রা.)-এর জীবনের হুবহু মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হযরত উসমান (রা.)-এর ওপর আনীত অভিযোগসমূহ ছিল মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন এবং ষড়যন্ত্রমূলক।

    বিদ্রোহীরা খলিফার বিরুদ্ধে প্রধানত স্বজনপ্রীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, আল-কুরআনের অনুলিপি পোড়ানো এবং আবু জর গিফারী (রা.)-কে নির্বাসনে পাঠানোর মতো অভিযোগ আনে। তবে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
    ১. স্বজনপ্রীতি: খলিফা উসমান (রা.) গুরুত্বপূর্ণ পদে শুধু আত্মীয়দের নিয়োগ দেননি, বরং মুয়াবিয়া (রা.) সহ অনেকেই হযরত ওমর (রা.)-এর আমল থেকেই দায়িত্বে বহাল ছিলেন। আবদুল্লাহ বিন সাদ মিসরের গভর্নর হিসেবে উত্তর আফ্রিকা বিজয়ে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। যোগ্যতার ভিত্তিতেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
    ২. বায়তুল মাল তসরুপ: উসমান (রা.) ইসলাম গ্রহণের পূর্ব থেকেই অত্যন্ত ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন এবং খেলাফতকালীন তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোনো বেতন গ্রহণ করতেন না; বরং ব্যক্তিগত তহবিল থেকেই আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের সাহায্য করতেন।
    ৩. কুরআন পোড়ানো: তিনি কোনো বিকৃত উদ্দেশ্যে তা করেননি; বরং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কিরাত বা পাঠপদ্ধতির বৈচিত্র্য থেকে বিভেদ দূর করে একটি প্রামাণ্য প্রতিলিপির ওপর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সাহাবিদের সর্বসম্মত পরামর্শেই অপ্রামাণিক কপিগুলো ধ্বংস করেছিলেন।

    সুতরাং, বিদ্রোহীদের আনীত সকল অভিযোগই ছিল চরম পক্ষপাতদুষ্ট এবং তৎকালীন ইসলামি খেলাফতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন