ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
ছাতক ও ভোলাগঞ্জে চলাচলকারী পাথরবাহী নৌকাগুলো ডাকুয়াবিল এলাকায় প্রায়ই ডাকাতদের দ্বারা লুন্ঠিত হয়। এতে ছাতকের পাথর ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হলে ছাতক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডাকুয়াবিল এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। কিন্তু তিনি এর কোনো প্রতিকার না পেয়ে শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে পুলিশের সহায়তায় ডাকাতদের আক্রমণ করেন। ফলে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ডাকাত প্রধান নিহত হয় এবং তার অনুসারীরা • পালিয়ে যায়। উক্ত অভিযান ডাকুয়াবিল এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
- ক)(1)
সোমনাথ মন্দির কোথায় অবস্থিত?
- খ)(2)
মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ছাতক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের অভিযানের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উক্ত বিজয় সাদৃশ্যপূর্ণ অঞ্চলের অধিবাসীদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সোমনাথ মন্দির ভারতের গুজরাটের কাথিয়াবাড় উপদ্বীপে অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐতিহাসিকদের মতে, মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ছিল উমাইয়া খিলাফতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। খলিফা আল-ওয়ালিদের মৃত্যুর পর তার ভাই সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিক খলিফা হন। সুলাইমান হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ঘোর বিরোধী ছিলেন। হাজ্জাজের মৃত্যুর পর তাঁর জামাতা ও সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের ওপর সুলাইমানের আক্রোশ গিয়ে পড়ে। সুলাইমানের নির্দেশে ইরাকের নতুন গভর্নর ইয়াজিদ বিন আবু কাবশা মুহাম্মদ বিন কাসিমকে পদচ্যুত ও বন্দি করে ইরাকের ওয়াসিত কারাগারে পাঠান। সেখানে অমানুষিক নির্যাতনের ফলে এই বীর সেনাপতির মৃত্যু ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ছাতক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের অভিযানের সাথে ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে।
মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল জলদস্যু কর্তৃক মুসলিম জাহাজ লুণ্ঠন। সিংহলরাজ (শ্রীলঙ্কা) খলিফা ওয়ালিদ এবং ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের জন্য আটটি বাণিজ্য জাহাজে বহু মূল্যবান উপহার এবং সিংহলে মৃত আরব বণিকদের বিধবা স্ত্রী ও অনাথ সন্তানদের পাঠিয়েছিলেন। দেবল বন্দরের নিকট সিন্ধুর জলদস্যুরা জাহাজগুলো লুণ্ঠন করে এবং আরোহীদের বন্দি করে। হাজ্জাজ সিন্ধুর রাজা দাহিরের কাছে এর ক্ষতিপূরণ ও বন্দিদের মুক্তি দাবি করলে দাহির জলদস্যুদের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যান। ফলে হাজ্জাজ বাধ্য হয়ে মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে সিন্ধুতে সেনাদল পাঠান।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ডাকুয়াবিল এলাকায় ছাতকের পাথরবাহী নৌকা জলদস্যু/ডাকাতদের দ্বারা লুণ্ঠিত হলে চেয়ারম্যান ক্ষতিপূরণ ও ব্যবস্থা দাবি করেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি আক্রমণ করে ডাকাত প্রধানকে পরাজিত করেন। এই ঘটনা সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ পটভূমির সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয় সিন্ধু ও মুলতান অঞ্চলের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, মুহাম্মদ বিন কাসিমের বিজয়ের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম মুসলিম শাসনের সূত্রপাত ঘটে। তিনি সিন্ধুতে একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয় অধিবাসীদের সরকারি চাকরি ও প্রশাসনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনে।
সামাজিক ক্ষেত্রে, তৎকালীন সিন্ধুর বর্ণবাদী হিন্দু সমাজে নিম্নবর্ণের জনগণ (যেমন—জাট ও মেড় সম্প্রদায়) চরম বৈষম্যের শিকার ছিল। কাসিমের ন্যায়পরায়ণতা, উদারতা ও সহনশীলতার ফলে সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে পড়ে এবং নিপীড়িত মানুষ সামাজিক মুক্তি পায়।
ধর্মীয় ক্ষেত্রে, এই বিজয়ের ফলে সিন্ধুর অমুসলিমদের 'জিম্মি' বা সুরক্ষিত প্রজা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাদের ধর্মকর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রাচীন রীতিনীতি বজায় রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। মুসলমানদের চারিত্রিক সততা, সাম্যবাদী নীতি এবং মানবিক ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়ে বহু স্থানীয় মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, যা উপমহাদেশের বুকে ইসলাম প্রচারের পথ সুগম করে।
অতএব, মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয় শুধু একটি সামরিক বিজয় ছিল না, বরং তা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও