‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

ইউরোপের একটি রাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের দানানল সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রটি পরাজিত শক্তি হিসেবে শাস্তি পায়। রাষ্ট্রটিকে দুভাগে ভাগ করে শক্তি খর্ব করা হয়।

  1. ক)

    'ফ্যাসিও' কথাটির অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    আটলান্টিক সনদের ব্যাখ্যা দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন যুদ্ধের দাবানলের কথা বলা হয়েছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    'যুদ্ধে পরাজয়ের পরিণতি ঐ রাষ্ট্রটিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ফ্যাসিও' (Fascio) কথাটির অর্থ হলো 'লাঠির আঁটি' বা 'শলাকাগুচ্ছ', যা ঐক্য ও শক্তির প্রতীক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে এক যুদ্ধজাহাজে গোপন বৈঠকের পর একটি যৌথ ঘোষণা দেন, যা 'আটলান্টিক সনদ' (Atlantic Charter) নামে পরিচিত। এই সনদে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, আগ্রাসন প্রতিরোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং নিরস্ত্রীকরণের মূলনীতিসমূহ ঘোষণা করা হয়, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রচনা করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ইউরোপের উগ্র জাতীয়তাবাদ ও স্বৈরাচারী মনোভাবের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধ হিসেবে 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ' (১৯৩৯-১৯৪৫)-এর কথা বলা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এ যুদ্ধের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. ভার্সাই চুক্তির অন্যায় শর্তাবলি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির ওপর চাপিয়ে দেওয়া অপমানজনক ভার্সাই চুক্তি জার্মানদের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
    ২. ফ্যাসিবাদের উত্থান: ইতালিতে মুসোলিনি ও জার্মানিতে হিটলারের উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী নীতির কারণে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়।
    ৩. তোষণ নীতি: ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো বৃহৎ শক্তিগুলোর হিটলারের প্রতি গৃহীত তোষণ নীতি জার্মানিকে আরও আগ্রাসী করে তোলে।
    ৪. পোল্যান্ড আক্রমণ: ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পরাজিত রাষ্ট্রটি হলো জার্মানি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর দেশটি এক অভাবনীয় বিপর্যয় ও খণ্ডবিখণ্ড পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। নিচে এর স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
    ১. ভৌগোলিক বিভাজন: যুদ্ধের পর জার্মানিকে প্রধান চারটি মিত্রশক্তি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন) নিজেদের মধ্যে চারটি দখলকৃত অঞ্চলে বিভক্ত করে ফেলে। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে জার্মানি স্থায়ীভাবে পশ্চিম জার্মানি (গণতান্ত্রিক) ও পূর্ব জার্মানি (কমিউনিস্ট)-তে দ্বিখণ্ডিত হয়, যার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় বার্লিন প্রাচীর।
    ২. মানব ও অবকাঠামোগত বিপর্যয়: অব্যাহত বোমাবর্ষণে জার্মানির বার্লিনসহ প্রধান প্রধান শিল্পনগরী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। লাখ লাখ সামরিক ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।
    ৩. অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি: যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং শিল্পসম্পদ মিত্রশক্তিগুলো বাজেয়াপ্ত করে। ফলে দেশটিতে মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারের সৃষ্টি হয়। নুরেমবার্গ বিচারের মাধ্যমে নাৎসি নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার করা হয়।
    অতএব, দেখা যায় যে যুদ্ধে পরাজয় জার্মানির অস্তিত্ব, সংহতি ও সমাজব্যবস্থায় এক সুদূরপ্রসারী বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন