ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করেন। তারা দিনের শুরুতে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রমের সূচনা করেন। তারপর তারা খালি পায়ে প্রভাত ফেরি করে একটি বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অপরাহ্নে তারা মাতৃভাষার চেতনায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল শোষণ-বঞ্চণার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার শপথের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রমের সমাপ্তি করেন।
- ক)(1)
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
- খ)(2)
কালরাত কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কর্মকান্ডে বাঙালির কোন আন্দোলনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলনের চেতনা পরবর্তী সকল আন্দোলনের প্রেরণা যুগিয়েছিল- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাঙালিদের ওপর অতর্কিতে 'অপারেশন সার্চলাইট' নামক যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালায়, সেই বিভীষিকাময় রাতটিকে ইতিহাসে 'কালরাত' বলা হয়। এ রাতে তারা হাজার হাজার নিরপরাধ বাঙালিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কর্মকাণ্ডে বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল 'ভাষা আন্দোলনের' ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্র-জনতা রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। তাঁদের স্মরণে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গান গেয়ে প্রভাতফেরি ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান শহীদ দিবস পালিত হয়, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত। উদ্দীপকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রবাসীদের ২১শে ফেব্রুয়ারির গান গাওয়া, খালি পায়ে প্রভাতফেরি এবং বেদিতে ফুল দেওয়ার বিষয়টি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও সংস্কৃতিকেই ফুটিয়ে তোলে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উক্ত আন্দোলনের চেতনা পরবর্তী সকল আন্দোলনের প্রেরণা যুগিয়েছিল”- উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলন ছিল না, বরং তা ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সফল বহিঃপ্রকাশ। ভাষার মর্যাদা রক্ষার এই বিজয় বাঙালিদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা কর্মসূচি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। একুশের রক্তঝরা আত্মত্যাগই বাঙালি জাতিকে শোষণ, বৈষম্য ও শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের চূড়ান্ত প্রেরণা জুগিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও