ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মায়ানমার ছিল একটি সামরিক শাসিত দেশ। দীর্ঘদিন সেখানে অংসান সূচির নেতৃত্বে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে। সামরিক সরকার আন্দোলন দমনের জন্য নির্যাতন যত বাড়িয়েছে আন্দোলন ততই জোরদার হয়েছে। এক সময় সামরিক শাসক দেশটিতে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় এবং এতে সূচি'র দল বিপুলভাবে জয়লাভ করে।
- ক)(1)
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কত সালে গঠিত হয়?
- খ)(2)
ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নির্বাচন তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত নির্বাচন বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভে কি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ প্রথম গঠিত হয় ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে (তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপিত ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি মূলত পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার রূপরেখা তুলে ধরেছিল। এতে পশ্চিম পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের শোষণ, বৈষম্য ও ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পথ নির্দেশ করা হয়। এ দাবিসমূহ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করেছিল বলে ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নির্বাচনটি আমার পাঠ্যপুস্তকের ঐতিহাসিক ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সামরিক সরকারের দীর্ঘদিনব্যাপী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অংসান সূচির নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলন চরম আকার ধারণ করলে সামরিক জান্তা নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় এবং সূচির দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
একইভাবে, তৎকালীন পাকিস্তানে জেনারেল আইয়ুব খান ও পরবর্তীতে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালিরা গণআন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে সামরিক শাসক দেশজুড়ে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ১৯৭০ সালের সেই সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। সামরিক জান্তার বিপরীতে জনগণের আন্দোলনের ফসল হিসেবে সংঘটিত হওয়া এবং বিপুল ভোটে বিজয় অর্জনের দিক থেকে উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল।
নিম্নে এ সংক্রান্ত যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. জাতীয় সংহতি ও বৈধতা অর্জন: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করেছিল যে, আওয়ামী লীগই তৎকালীন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবির প্রতি জনগণের অবিসংবাদিত সমর্থন চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র উন্মোচন: নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে টালবাহানা শুরু করে। এতে বাঙালিদের কাছে স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয় যে, পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে বাঙালির স্বাধিকার অর্জন সম্ভব নয়।
৩. স্বাধীনতার পটভূমি তৈরি: ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতির কারণেই ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় এবং ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন। পরবর্তীতে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর ২৬শে মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়।
৪. আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ: গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়লাভের ফলে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এটি স্পষ্ট ছিল যে, বাঙালিরা অন্যায় আগ্রাসনের শিকার এবং তাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ন্যায়সঙ্গত।সুতরাং, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন বাঙালিদের জাতীয়তাবোধকে স্বাধীনতার এক মোহনায় নিয়ে এসেছিল এবং একটি সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও