ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী ছিলেন। তিনি তাঁর সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করে পূর্বে কৃষ্ণসাগর থেকে পশ্চিমে। তিউনিসিয়া এবং উত্তরে ভিয়েনা থেকে দক্ষিণে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। তিনি সাম্রাজ্যে আইদের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। দুর্নীতির দায়ে তার জামাতাকেও তিনি শান্তি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতেন।

  1. ক)

    ইসলামের প্রথম খলিফার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'খুলাফায়ে রাশেদিন' বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মহামতি সুলাইমানের সাথে তোমার পঠিত। কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে উক্ত খলিফার শাসন ব্যবস্থা পর্যালোচনা। করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইসলামের প্রথম খলিফার নাম হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'খুলাফায়ে রাশেদিন' বলতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহ পরিচালনাকারী চারজন ন্যায়নিষ্ঠ ও পথপ্রদর্শক খলিফাকে বোঝায়।

    তাঁরা হলেন— হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছরব্যাপী তাঁদের শাসনকালকে খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগ বলা হয়। তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ন্যায়পরায়ণভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মহামতি সুলাইমানের সাথে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    খলিফা হযরত ওমর (রা.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। তাঁর আমলে পারস্য সাম্রাজ্য এবং বাইজেন্টাইন বা রোমান সাম্রাজ্যের বড় একটি অংশ (সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিসর) মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং অপরাধের ক্ষেত্রে আপন-পর নির্বিশেষে কঠোর বিচার নিশ্চিত করেছিলেন।

    উদ্দীপকের মহামতি সুলাইমান যেভাবে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন এবং দুর্নীতির দায়ে নিজের জামাতাকেও ছাড় না দিয়ে আইনের কঠোর শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ঠিক তেমনই খলিফা ওমর (রা.) মুসলিম সাম্রাজ্য বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিজের পুত্র কিংবা উচ্চপদস্থ সেনাপতিদেরও বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি। সুতরাং, তাঁর সাথে হযরত ওমর (রা.)-এর পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনব্যবস্থা ছিল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনকল্যাণ এবং আইনের শাসনের এক অনন্য সমন্বয়।

    ১. আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার: খলিফা ওমর (রা.) আইনের চোখে সবাইকে সমান দেখতেন। তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং কাজী নিয়োগ করেন। এমনকি খলিফা নিজে এবং তাঁর প্রাদেশিক গভর্নররাও আইনের ঊর্ধ্বে ছিলেন না।

    ২. মজলিস-উশ-শুরা: তিনি স্বৈরাচারী ছিলেন না; বরং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরামর্শভিত্তিক শাসন পরিচালনার জন্য 'মজলিস-উশ-শুরা' বা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছিলেন।

    ৩. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ: সুবিশাল সাম্রাজ্যকে সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য তিনি সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত করেন এবং ওয়ালী (গভর্নর), আমেল (রাজস্ব কর্মকর্তা) প্রমুখ যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি রাখতেন।

    ৪. বায়তুল মাল ও জনকল্যাণ: তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার 'বায়তুল মাল' সুবিন্যস্ত করেন এবং দরিদ্র, এতিম ও অমুসলিমদের জন্য ভাতা ব্যবস্থা চালু করেন। ডাক বিভাগ, পুলিশ ব্যবস্থা, নতুন শহর নির্মাণ এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেন।

    অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত কঠোর শাসন ও ন্যায়বিচারের আদর্শ খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন