গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পরিপাকতন্ত্র কাকে বলে?
- খ)(2)
যকৃৎ কীভাবে চর্বি পরিপাকে ভূমিকা রাখে?
- গ)(3)
মানবদেহে 'A' এর ভূমিকা ব্যাখ্যা করো。
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'B' ও 'C' অংশে প্রোটিনের পরিপাক বিশ্লেষণ করো。
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে তন্ত্রের মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ এবং অপাচ্য অংশের নিষ্কাশন সম্পন্ন হয়, তাকে পরিপাকতন্ত্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যকৃৎ পিত্তরস (Bile) তৈরি করে, যা পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং খাদ্য পরিপাকের সময় ডিওডেনামে নিঃসৃত হয়। পিত্তরসে থাকা পিত্তলবণ (যেমন- সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট এবং সোডিয়াম টরোকোলেট) চর্বি জাতীয় খাদ্যের বৃহৎ কণাকে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দুতে পরিণত করে, যাকে ইমালসিফিকেশন (Emulsification) বলে। এর ফলে লাইপেজ এনজাইমের কাজের ক্ষেত্র বৃদ্ধি পায় এবং চর্বি সহজে পরিপাক হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'A' অঙ্গটি হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। মানবদেহে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র গ্রন্থি, যা পরিপাক ও বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
১. বহিঃক্ষরা ভূমিকা (পরিপাক রস নিঃসরণ): অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়, যাতে শর্করা, আমিষ এবং চর্বি পরিপাককারী বিভিন্ন এনজাইম থাকে। যেমন— অ্যামাইলেজ শর্করা পরিপাক করে, ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ বা প্রোটিন পরিপাক করে এবং লাইপেজ ফ্যাট বা চর্বি পরিপাক করে গ্লিসারল ও ফ্যাটি অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে। এছাড়া এতে থাকা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট পাকস্থলী থেকে আসা অম্লীয় খাদ্যরসকে ক্ষারীয় করে এনজাইমের কাজের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে।
২. অন্তঃক্ষরা ভূমিকা (হরমোন নিঃসরণ): অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি সাহায্য করে।
অতএব, খাদ্য পরিপাক এবং বিপাকীয় ভারসাম্য রক্ষায় অগ্ন্যাশয়ের ভূমিকা অপরিসীম। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে 'B' হলো পাকস্থলী (Stomach) এবং 'C' হলো ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine)। মানবদেহে এই দুই অংশে প্রোটিনের পরিপাক প্রক্রিয়া নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পাকস্থলীতে ('B' অংশ) প্রোটিন পরিপাক:
- পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে।
- সক্রিয় পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল প্রোটিন খাদ্যকে ভেঙে প্রোটিওজ ও পেপটনে পরিণত করে:
- শিশুদের পাকস্থলীতে রেনিন নামক এনজাইম দুধের দ্রবণীয় প্রোটিন কেসিনকে অদ্রবণীয় প্যারাকেসিনে রূপান্তরিত করে।
২. ক্ষুদ্রান্ত্রে ('C' অংশ) প্রোটিন পরিপাক:
ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে খাদ্য পৌঁছালে অগ্ন্যাশয় রস ও আন্ত্রিক রসের এনজাইম দ্বারা প্রোটিন সম্পূর্ণ পরিপাক হয়ে সরল অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিণত হয়:- অগ্ন্যাশয় রসের ট্রিপসিন পেপটন ও প্রোটিওজকে পলিপেপটাইডে পরিণত করে:
- কাইমোট্রিপসিন ও কার্বক্সিপেপটাইডেজ পলিপেপটাইডকে ভেঙে সরল পেপটাইডে পরিণত করে।
- সবশেষে আন্ত্রিক রসের ইরেপসিন (বা অ্যামিনোপেপটাইডেজ ও ডাইপেপটাইডেজ) পেপটাইডগুলোকে ভেঙে দেহকোষের শোষণযোগ্য অ্যামাইনো অ্যাসিডে রূপান্তর করে:
এভাবেই পরিপাকতন্ত্রের 'B' (পাকস্থলী) এবং 'C' (ক্ষুদ্রান্ত্র) অংশে ধাপে ধাপে প্রোটিনের সম্পূর্ণ পরিপাক সাধিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও