ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১

ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

আদনান একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ভর্তির সময় এমন বিষয় পছন্দ করল, যা অধ্যয়নে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক জীবনযাপন করা যায়। ফলে সে নিজেকে স্রষ্টার নিকট সম্পূর্ণরূপে সোপর্দ করল। তার দিকনির্দেশনায় বোন রহিমাও একটি জায়গায় প্রতিদিন গিয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করে। রহিমা এখন কাজের শুরুতে, খাদ্য গ্রহণে, পারস্পরিক সাক্ষাতে বিশেষ পরিভাষা ব্যবহার করে।

  1. ক)

    মক্তব কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'কথার শুরুতে সালাম পেশ করতে হয়'- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    আদনান কোন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেছে? এর পরিচয় দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    রহিমার জ্ঞানার্জনের জায়গাটি কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান? এর প্রয়োজনীয়তা লেখো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের কুরআন পাঠ ও ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া হয়, তাকে মক্তব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'কথার শুরুতে সালাম পেশ করতে হয়'—কারণ সালাম হলো পারস্পরিক শান্তি ও কল্যাণের দোয়া এবং ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার। মহানবী (সা.) বলেছেন, 'কথাবার্তা বলার পূর্বে সালাম দাও।' সালাম প্রদানের মাধ্যমে অহংকার দূর হয়, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয়। তাই যেকোনো আলোচনা বা কথোপকথন শুরু করার পূর্বশর্ত হলো সালাম বিনিময় করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আদনান 'ইসলাম শিক্ষা' বা 'ইসলামি অনুশাসন/শরিয়ত' বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেছে।

    ইসলাম শিক্ষা হলো এমন এক সামগ্রিক জ্ঞানব্যবস্থা, যা মানুষকে স্রষ্টার পরিচয়, তাঁর আদেশ-নিষেধ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার সঠিক পথ নির্দেশ করে। 'ইসলাম' শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণ করা ও শান্তির পথে চলা। ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে বান্দাকে সম্পূর্ণরূপে তাঁর বিধানের অধীনে সোপর্দ করা। উদ্দীপকে আদনান এমন বিষয় বেছে নিয়েছে যার অধ্যয়নে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করা যায় এবং নিজেকে স্রষ্টার নিকট সম্পূর্ণরূপে সোপর্দ করা যায়, যা মূলত ইসলামি জ্ঞানেরই পরিচয় বহন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রহিমার জ্ঞানার্জনের জায়গাটি হলো একটি 'ফোরকানিয়া মক্তব' বা ধর্মীয় প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

    মুসলিম সমাজের তৃণমূল পর্যায়ে ধর্মীয় অনুশাসন ও শিষ্টাচার শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মক্তবের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম:
    ১. মৌলিক ধর্মীয় জ্ঞান দান: শিশুদের শুদ্ধরূপে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ ও দৈনন্দিন দোয়াদরুদ শিক্ষা দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো মক্তব।
    ২. শিষ্টাচার ও আচার-আচরণ শিক্ষা: উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে—রহিমা কাজের শুরুতে 'বিসমিল্লাহ', খাদ্য গ্রহণে বা সাক্ষাতে 'সালাম' ইত্যাদির মতো ইসলামি পরিভাষা ব্যবহার শিখেছে, যা মক্তবের মাধ্যমেই বাস্তব জীবনে অভ্যাসে পরিণত হয়।
    ৩. নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন: শৈশব থেকেই শিশুদের সত্যবাদিতা, বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী করে গড়ে তুলতে মক্তবীয় শিক্ষার বিকল্প নেই।
    ৪. সমাজ সংস্কার: মক্তব শিক্ষার মাধ্যমে শিশুরা অন্যায়, মিথ্যা ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে সৎ ও খোদাভীরু নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
    অতএব, একটি আদর্শ ও নৈতিক সমাজ গঠনে রহিমার জ্ঞানার্জনের স্থান তথা মক্তবের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন