জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ক্রসিং ওভার কী?
- খ)(2)
জেনেটিক কোড বলতে কী বোঝ ?
- গ)(3)
উপরোক্ত P চিত্রের A অংশে সংঘটিত কোষ বিভাজনের প্রথম দুটি ধাপ চিত্রসহ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উপরোক্ত Q চিত্রের B অংশে সংঘটিত কোষ বিভাজনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মায়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ পর্যায়ের প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে একজোড়া হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জেনেটিক কোড হলো ডিএনএ বা এমআরএনএ অণুতে অবস্থিত তিনটি পরপর নাইট্রোজেনাস ক্ষারকের (ট্রিপলেট) একটি নির্দিষ্ট অনুক্রম, যা প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় একটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিডকে নির্দেশ করে। মোট ৬৪টি ট্রিপলেট কোডন রয়েছে, যার মধ্যে ৬১টি কোডন ২০টি অ্যামিনো অ্যাসিডকে নির্দেশ করে এবং ৩টি কোডন সমাপ্তি কোডন হিসেবে কাজ করে। জেনেটিক কোড সার্বজনীন এবং অবিকৃতভাবে বংশানুক্রমিক তথ্য প্রোটিনে রূপান্তর করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র P-এর A অংশটি হলো উদ্ভিদের বর্ধনশীল শীর্ষ বা শীর্ষমুকুল, যেখানে মাইটোসিস কোষ বিভাজন সম্পন্ন হয়। মাইটোসিসের প্রথম দুটি ধাপ হলো প্রোফেজ এবং প্রো-মেটাফেজ। নিচে এ দুটি ধাপের বর্ণনা ও চিত্র উপস্থাপন করা হলো:
১. প্রোফেজ (Prophase):
- এটি মাইটোসিসের প্রাথমিক ও সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়।
- জলবিয়োজনের ফলে ক্রোমোজোমগুলো ক্রমশ খাটো, মোটা এবং স্পষ্ট হতে থাকে।
- প্রতিটি ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত লম্বালম্বিভাবে দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত হয়।
- এ পর্যায়ের শেষের দিকে নিউক্লিওলাস এবং নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বিলুপ্ত হতে শুরু করে।
২. প্রো-মেটাফেজ (Prometaphase):
- এ পর্যায়ে তন্তুময় প্রোটিনের সমন্বয়ে দুই মেরুযুক্ত স্পিন্ডল যন্ত্র সৃষ্টি হয়।
- স্পিন্ডল যন্ত্রের যেসব তন্তুর সাথে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার যুক্ত হয়, তাদের ট্র্যাকশন তন্তু বা ক্রোমোজোমাল তন্তু বলে।
- ক্রোমোজোমগুলো বিষুবীয় অঞ্চলের দিকে ধাবিত হতে থাকে, যাকে 'ক্রোমোজোমাল নৃত্য' বলে।
- এ পর্যায়ের শেষের দিকে নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
[চিত্র নির্দেশিকা: পরীক্ষার্থীকে প্রোফেজ ও প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ের সুস্পষ্ট চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে।]
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের Q চিত্রের B অংশটি হলো পরাগধানী (জননাঙ্গ)। পরাগধানীর পরাগরেণু মাতৃকোষে ডিপ্লয়েড (2n) অবস্থা থেকে হ্যাপ্লয়েড (n) পরাগরেণু বা জননকোষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মায়োসিস (হ্রাসমূলক) কোষ বিভাজন ঘটে।
জীবজগতে B অংশে সংঘটিত এই মায়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব অপরিসীম:
১. ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা: মায়োসিসের মাধ্যমে জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক (n) হয়ে যায়। পরবর্তীতে নিষেকের মাধ্যমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে পুনরায় ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট তৈরি করে। এর ফলে প্রজাতিভেদে বংশপরম্পরায় ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্দিষ্ট ও ধ্রুব থাকে।
২. জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি: মায়োসিস-১ এর প্যাকাইটিন ধাপে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ক্রসিং ওভার ঘটে। ফলে জিনের পুনঃসংযোজন (recombination) হয়, যা জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের সঞ্চার করে এবং জেনেটিক বৈচিত্র্য নিশ্চিত করে।
৩. প্রজাতির অস্তিত্ব ও অভিব্যক্তি: জিনগত পরিবর্তনের ফলে জীবের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা জৈব অভিব্যক্তিতে কাঁচামাল হিসেবে ভূমিকা রাখে এবং পরিবর্তিত পরিবেশে প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
৪. গ্যামেট সৃষ্টি: যৌন প্রজননক্ষম সকল জীবের জীবনচক্রে গ্যামেট বা হ্যাপ্লয়েড জননকোষ তৈরিতে মায়োসিস আবশ্যক।সুতরাং, পরাগধানী তথা B অংশে মায়োসিস সংঘটিত না হলে ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রতি প্রজন্মে দ্বিগুণ হয়ে জীবজগতের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হতো। তাই জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও