‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী একটি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এশিয়া মহাদেশের একটি অঞ্চলের জনগণের দাবি পূরণের লক্ষ্যে ক্যাবিনেটর ৩ সদস্যকে দায়িত্ব দিলেন। ক্যাবিনেট সদস্যগণ উক্ত অঞ্চলের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ-আলোচনায় ঐক্যমত পৌঁছাতে না পেরে নিজস্ব বিবেচনায় একটি পরিকল্পনা পেশ করেন। পরিকল্পনায় জনগণের দাবি পূরণের স্বপ্ন ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রস্তাব ঘোষণা করলেন।

  1. ক)

    ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    ৩ জুন পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন পরিকল্পনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনাটির গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার পর ভারত বিভাগের যে রূপরেখা প্রকাশ করেন, তা ইতিহাসে '৩ জুন পরিকল্পনা' বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা নামে পরিচিত। এ পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ছিল ব্রিটিশ ভারতকে বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন ডোমিনিয়ন গঠন করা এবং দেশীয় রাজ্যগুলোকে যেকোনো একটিতে যোগদানের অথবা স্বাধীন থাকার সুযোগ দেওয়া।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৬ সালের 'মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা' বা 'ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা'-র মিল রয়েছে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি ভারতের শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা দূরীকরণ ও স্বাধীনতা প্রদানের লক্ষ্যে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্য—লর্ড পেথিক লরেন্স, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডারকে নিয়ে গঠিত 'ক্যাবিনেট মিশন'কে ভারতে পাঠান। উদ্দীপকেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী একটি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর ৩ সদস্যের ক্যাবিনেট দলকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    ক্যাবিনেট মিশনের সদস্যগণ ভারতের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সাথে আলাপ-আলোচনা করে ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। ফলে তারা ১৯৪৬ সালের ১৬ মে নিজস্ব বিবেচনায় ভারতের ভবিষ্যৎ সংবিধান প্রণয়ন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনাটি সুস্পষ্টভাবে ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন বা মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনাকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনাটি হলো ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা। ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিতে এই পরিকল্পনাটির গ্রহণযোগ্যতা ছিল মিশ্র এবং শেষ পর্যন্ত তা চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করতে পারেনি।

    মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনায় ভারতের ঐক্য বজায় রেখে প্রদেশগুলোকে ক, খ ও গ—এই তিনটি গ্রুপে বিভক্ত করে একটি শিথিল যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। শুরুতে মুসলিম লীগ এটিকে স্বতন্ত্র পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ বা বিকল্প বিবেচনা করে গ্রহণ করে। অন্যদিকে, জাতীয় কংগ্রেসও অখণ্ড ভারতের রূপরেখা দেখে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিকল্পনাটি মেনে নেয় এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগদানে সম্মত হয়।

    কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই পরিকল্পনার ব্যাখ্যা—বিশেষ করে প্রদেশগুলোর বাধ্যতামূলক গ্রুপিং নিয়ে কংগ্রেস ও লীগের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়। জওহরলাল নেহরুর একটি বক্তব্যের পর মুসলিম লীগ পরিকল্পনা থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে এবং প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের ডাক দেয়। কংগ্রেসও তাদের সুবিধাজনক অবস্থানে অনড় থাকে। ফলে পরিকল্পনাটি উভয় দলের কাছে সার্বজনীন ও টেকসই গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভারত বিভাজন অনিবার্য হয়ে ওঠে। অতএব, পরিকল্পনাটির প্রাথমিক গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও চূড়ান্ত বিশ্লেষণে এটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন