অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

- ক)(1)
সূচক সংখ্যা কী?
- খ)(2)
সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে দামস্তর বাড়ে-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের মুদ্রাস্ফীতি প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রকাশিত মুদ্রাস্ফীতির কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে পারিমানির্দেশক বা পরিমাপক কৌশলের সাহায্যে সময়ের ব্যবধানে বা স্থানভেদে কোনো অর্থনৈতিক চলকের (যেমন: দামস্তর বা উৎপাদন) আপেক্ষিক বা শতকরা পরিবর্তন পরিমাপ করা হয়, তাকে সূচক সংখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সমাজে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যার ফলশ্রুতিতে দামস্তর বাড়ে।
সরকার যখন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও অনুন্নয়নমূলক খাতে (যেমন: রাস্তাঘাট নির্মাণ, বেতন-ভাতা প্রদান, ভর্তুকি ইত্যাদি) ব্যয় বাড়ায়, তখন জনগণের হাতে অর্থ তথা ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অর্থনীতিতে পূর্ণ নিয়োগ বা উৎপাদন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকলে হঠাৎ করে চাহিদার সমপরিমাণ যোগান বৃদ্ধি সম্ভব হয় না। ফলে সামগ্রিক চাহিদা রেখা ডানদিকে স্থানান্তরিত হয় এবং পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদার চাপে সার্বিক দামস্তর বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি' (Cost-push Inflation) প্রকাশিত হয়েছে।
উৎপাদন ব্যয়ের উপাদানসমূহ (যেমন: মজুরি, কাঁচামালের দাম, পরিবহন খরচ ইত্যাদি) বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক যোগান হ্রাস পেয়ে যে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়, তাকে ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে ভূমি অক্ষে সামগ্রিক আয় (Y) এবং লম্ব অক্ষে দামস্তর (P) দেখানো হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় সামগ্রিক চাহিদা রেখা AD এবং সামগ্রিক যোগান রেখা AS₁ পরস্পর E₁ বিন্দুতে ছেদ করে, যেখানে ভারসাম্য দামস্তর ছিল P₁ এবং সামগ্রিক আয় ছিল Y₁। পরবর্তীতে সামগ্রিক চাহিদা (AD) অপরিবর্তিত থেকে সামগ্রিক যোগান হ্রাস পাওয়ার কারণে যোগান রেখাটি বামে স্থানান্তরিত হয়ে AS₂ হয়। নতুন ভারসাম্য বিন্দু E₂-তে দামস্তর বেড়ে P₂ হয় এবং সামগ্রিক উৎপাদন কমে Y₂ হয়। যেহেতু সামগ্রিক যোগান হ্রাসের মাধ্যমে দামস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই এটি ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রকাশিত মুদ্রাস্ফীতিটি হলো ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি। নিচে এ ধরনের মুদ্রাস্ফীতির কারণসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মজুরি বৃদ্ধি: শ্রমিক ইউনিয়নের চাপ বা সরকারি নীতিমালার কারণে উৎপাদনশীলতার তুলনায় মজুরি বেশি বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন খরচ বাড়ে। উৎপাদকরা বর্ধিত খরচ মেটাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
২. কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি: শিল্প উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামাল বা জ্বালানির (যেমন: তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ) মূল্য বাড়লে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, যা সামগ্রিক যোগান কমিয়ে দেয় এবং দামস্তর বৃদ্ধি করে।
৩. আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধি: আমদানিকৃত কাঁচামাল বা মধ্যবর্তী পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে কিংবা দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটলে দেশে আমদানিজনিত কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
৪. পরোক্ষ কর বৃদ্ধি: সরকার উৎপাদন ও বিক্রয় পর্যায়ে ভ্যাট, শুল্ক বা উৎপাদন কর বৃদ্ধি করলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যার ফলে পণ্যের যোগান কমে গিয়ে দাম বাড়ে।
৫. প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও পরিবেশগত কারণ: খরা, বন্যা, মহামারি ইত্যাদির কারণে কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিলে যোগান সংকুচিত হয় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
৬. একচেটিয়া কারবারিদের মুনাফার মাত্রা বৃদ্ধি: বাজারে একচেটিয়া বা অলিগোপলি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে পণ্যের যোগান কমিয়ে দাম বাড়িয়ে দেয়।
উপরিউক্ত কারণগুলোর ফলে সামগ্রিক যোগান রেখা বামে সরে যায় (AS₁ থেকে AS₂), যার ফলে উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত মূল্যস্তর P₁ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে P₂-তে পৌঁছে ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও