পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. সালাম বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি রাষ্ট্রপ্রদত্ত সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে অসচেতন। তিনি নিয়মিত কর প্রদান করেন না এমনকি নির্বাচনে ভোট দানেও অংশগ্রহণ করেন না। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করায় আদালতের মাধ্যমে তিনি শাস্তি ভোগ করেছেন।
- ক)(1)
মানবাধিকার দিবস কত তারিখে পালিত হয়?
- খ)(2)
৩টি ব্যক্তিগ অধিকারের নাম লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. সালাম নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রপ্রদত্ত যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত বর্জনীয় কাজ দুটি কোন ধরনের কর্তব্যের পর্যায়ভুক্ত? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তিগত অধিকার হলো সেসব অধিকার, যা ব্যক্তির নিজস্ব জীবন ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। ৩টি ব্যক্তিগত অধিকার হলো:
১. জীবনের নিরাপত্তা লাভের অধিকার।
২. চলাফেরার স্বাধীনতা।
৩. মত প্রকাশের ও চিন্তার স্বাধীনতা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. সালাম নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রপ্রদত্ত যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, সেগুলোকে পৌরনীতি ও সুশাসনের ভাষায় 'অধিকার' বলা হয়। অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত সেসব সুযোগ-সুবিধা, যা ব্যতীত নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।
নাগরিক হিসেবে মি. সালাম প্রধানত তিন ধরনের অধিকার বা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন:
১. সামাজিক অধিকার: স্বাধীনভাবে জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার এবং শিক্ষার অধিকার।
২. রাজনৈতিক অধিকার: রাষ্ট্রে বসবাস করা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা এবং সরকারের গঠন ও পরিচালনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার অধিকার।
৩. অর্থনৈতিক অধিকার: জীবিকা অর্জনের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার এবং অবকাশ যাপনের অধিকার।সুতরাং, মি. সালাম রাষ্ট্রের একজন সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপ্রদত্ত এসকল নাগরিক ও সাংবিধানিক সুযোগ-সুবিধা (অধিকার) নির্বিঘ্নে ভোগ করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত মি. সালামের বর্জনীয় কাজ দুটি হলো: নিয়মিত কর প্রদান না করা এবং নির্বাচনে ভোটদানে অংশগ্রহণ না করা। এই কাজ দুটি নাগরিকের 'আইনগত কর্তব্য' এবং 'রাজনৈতিক কর্তব্য'-এর পর্যায়ভুক্ত।
কর্তব্য হলো নাগরিকের সেই সব দায়িত্ব যা তার নিজের এবং রাষ্ট্রের কল্যাণে পালন করা আবশ্যক। অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত; অধিকার ভোগ করতে হলে কর্তব্য পালন করতে হয়।
১. নিয়মিত কর প্রদান না করা (আইনগত ও আর্থিক কর্তব্য অবহেলা): রাষ্ট্র পরিচালনা, নিরাপত্তা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কাজের ব্যয়নির্বাহের জন্য নাগরিকের আয়ের ওপর কর ধার্য করা হয়। নিয়মিত কর দেওয়া নাগরিকের অন্যতম প্রধান আইনগত ও আর্থিক কর্তব্য। মি. সালাম কর না দিয়ে তাঁর এই মৌলিক আইনি কর্তব্য লঙ্ঘন করেছেন।
২. নির্বাচনে ভোটদানে অংশগ্রহণ না করা (রাজনৈতিক ও নৈতিক কর্তব্য অবহেলা): গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নাগরিক কর্তব্য। সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিক রাষ্ট্রের শাসনকাজে অংশ নেয়। ভোটদান থেকে বিরত থেকে মি. সালাম তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা প্রদর্শন করেছেন।
অতএব, উদ্দীপকে মি. সালামের বর্জনীয় কাজ দুটি যথাক্রমে নাগরিকের আর্থিক/আইনগত কর্তব্য এবং রাজনৈতিক কর্তব্যের অবহেলার পর্যায়ভুক্ত, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সুনাগরিকের পরিপন্থী আচরণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও