‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব রাসেল বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি মনে করেন ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে একতাবদ্ধ করেছিল। ভাষার জন্য সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারসহ আরো অনেকে শাহাদত বরণ করেন। ভাষা আন্দোলনের চেতনাই পরবর্তীতে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা আন্দোলন তথা মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

  1. ক)

    অধ্যাদেশ কে জারি করেন?

    (1)
  2. খ)

    জাতীয়তা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জাতি গঠনের ক্ষেত্রে কোন উপাদানটি ভূমিকা রেখেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদানটি ছাড়া জাতি গঠনে আর কী কী উপাদান রয়েছে? আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয়তা হলো একটি মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক ধারণা। একই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম বা ভৌগোলিক সান্নিধ্যের সূত্রে আবদ্ধ কোনো জনসমষ্টি যখন নিজেদের অন্য জনসমষ্টি থেকে আলাদা মনে করে এবং তাদের মধ্যে এক গভীর ঐক্যের অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তখন তাকে জাতীয়তা (Nationality) বলে। অর্থাৎ, এটি একাত্মবোধের এমন এক অনুভূতি যা কোনো জনগোষ্ঠীকে একটি রাজনৈতিক ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জাতি গঠনের ক্ষেত্রে 'ভাষাগত ঐক্য' বা ভাষাভিত্তিক উপাদানের ভূমিকা ফুটে উঠেছে।

    ভাষা হলো মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। একই ভাষায় কথা বলার কারণে মানুষের মধ্যে সহজে আন্তরিকতা ও গভীর সংহতি গড়ে ওঠে, যা জাতি গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রাসেল উল্লেখ করেছেন যে ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে একতাবদ্ধ করেছিল। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারসহ অনেকে আত্মদান করেছিলেন। ভাষার প্রশ্নে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক ঐক্যই বাঙালিকে একটি শক্তিশালী জাতিসত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছিল। সুতরাং, উদ্দীপকে জাতি গঠনে ভাষাভিত্তিক ঐক্যই প্রধান ভূমিকা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদানটি (ভাষা) ছাড়াও জাতি গঠনে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। এগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. ভৌগোলিক ঐক্য: নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক সীমারেখায় দীর্ঘকাল পাশাপাশি বসবাস করার ফলে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও একাত্মবোধ গড়ে ওঠে, যা জাতি গঠনে সহায়ক।
    ২. ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ঐক্য: একটি জনগোষ্ঠীর সাধারণ ইতিহাস, ঐতিহ্যের স্মৃতি, যৌথ সংগ্রাম বা পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তির লড়াই তাদের ঐক্যের সূত্রে বাঁধে। যেমন—বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার আন্দোলন।
    ৩. সাংস্কৃতিক ঐক্য: রীতিনীতি, উৎসব, আচার-অনুষ্ঠান, পোশাক-পরিচ্ছদ ও জীবনযাত্রার সাদৃশ্য একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতির জন্ম দেয়, যা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে।
    ৪. ধর্মীয় ঐক্য: সমধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের সহানুভূতি ও ঐক্যবোধ জন্মায়, যদিও আধুনিক যুগে ধর্মই জাতি গঠনের একমাত্র বা অপরিহার্য উপাদান নয়।
    ৫. অর্থনৈতিক স্বার্থের ঐক্য: অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ বা অর্থনৈতিক উন্নতির আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে সংহতি দৃঢ় করে।
    ৬. মানসিক বা রাজনৈতিক চেতনা: সর্বোপরি, জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো রাজনৈতিক সচেতনতা ও একাত্মতার মানসিক অনুভূতি—অর্থাৎ নিজেদের একটি স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা এবং স্বাধীন রাজনৈতিক জীবনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা।

    পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাষাগত ঐক্যের পাশাপাশি উপরোক্ত ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক চেতনাগত উপাদানগুলোর সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতি গড়ে ওঠে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন