মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০১৯
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
ব্যক্তিত্ব কী?
- খ)(2)
ব্যক্তিত্বের সংলক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
চিত্রে 'ক' চিহ্নিত অভীক্ষাটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'গ' এবং ''ঘ' অভীক্ষাদ্বয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তিত্ব হলো কোনো ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যাবলির এমন এক গতিশীল সংগঠন, যা পরিবেশের সাথে তার অনন্য ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অভিযোজন নির্ধারণ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তিত্বের সংলক্ষণ (traits) হলো ব্যক্তির আচরণের অপেক্ষাকৃত স্থায়ী ও ধারাবাহিক বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির স্বকীয়তা প্রকাশ পায়। সংলক্ষণের মাধ্যমে ব্যক্তির ভবিষ্যৎ আচরণ অনুমান করা যায় এবং পরিবেশের সাথে সে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা বোঝা যায়। ফলে ব্যক্তির আচরণকে সুনির্দিষ্টভাবে শ্রেণিবদ্ধ করতে, পরিমাপ করতে এবং ব্যক্তিত্বের সামগ্রিক রূপ অনুধাবন করতে সংলক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রে 'ক' চিহ্নিত অভীক্ষাটি হলো 'প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা' (Projective Test)।
যে অভীক্ষায় ব্যক্তিকে কোনো অসংগঠিত, অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থবোধক উদ্দীপক (যেমন- কালির ছাপ, অস্পষ্ট ছবি ইত্যাদি) প্রদর্শন করা হয় এবং ব্যক্তি সেগুলোর ওপর নিজের মনের অবদমিত ইচ্ছা, অনুভূতি, মনোভাব ও সংঘাত প্রক্ষেপণ করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, তাকে প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা বলে।
এ জাতীয় অভীক্ষায় কোনো নির্দিষ্ট বা কাঠামোগত উত্তর থাকে না। অভীক্ষার্থী সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার সুযোগ পায়। ফলে তার অবচেতন মনের গভীর অনুভূতি, হতাশা ও ব্যক্তিত্বের অভ্যন্তরীণ দিকগুলো উন্মোচিত হয়। মনোবিজ্ঞানে ব্যক্তিত্ব মূল্যায়নে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' হলো প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা। প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষার প্রধান দুটি পদ্ধতি হলো 'গ'—রোরশাকের কালির ছাপ অভীক্ষা (Rorschach Inkblot Test) এবং 'ঘ'—বিষয়বস্তু প্রত্যক্ষণ অভীক্ষা (Thematic Apperception Test বা TAT)। নিম্নে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উদ্দীপকের প্রকৃতি: রোরশাক অভীক্ষায় মোট ১০টি কালির ছাপযুক্ত কার্ড ব্যবহার করা হয়, যা সম্পূর্ণ অসংগঠিত ও অস্পষ্ট। অন্যদিকে, টিএটি (TAT)-তে ৩০টি ছবি সংবলিত এবং ১টি ফাঁকা কার্ড থাকে, যেগুলোর ছবি অস্পষ্ট হলেও মানবীয় চিত্র ও দৃশ্য নির্দেশ করে।
২. কাজের ধরন: রোরশাক অভীক্ষায় ব্যক্তিকে কালির ছাপ দেখে সেখানে কী দেখতে পাচ্ছে বা কী মনে হচ্ছে তা বলতে বলা হয়। অন্যদিকে, টিএটি-তে ছবি দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প তৈরি করতে বলা হয় (অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিণতি উল্লেখসহ)।
৩. মূল্যায়নের উদ্দেশ্য: রোরশাক অভীক্ষার মাধ্যমে মূলত ব্যক্তির বৌদ্ধিক ক্ষমতা, অবচেতন আবেগীয় প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক ব্যক্তিত্বের মানসিক ভারসাম্য পরিমাপ করা হয়। পক্ষান্তরে, টিএটি-এর মাধ্যমে ব্যক্তির চাহিদা, অবদমিত প্রেরণা, সামাজিক সম্পর্ক ও অন্তর্ব্যক্তিক সংঘাত চিহ্নিত করা হয়।
৪. প্রয়োগক্ষেত্র: রোরশাক প্রধানত ক্লিনিক্যাল বা মানসিক রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়, যেখানে টিএটি ব্যক্তিত্বের সামাজিক ও প্রেষণামূলক কাঠামো বিশ্লেষণে বেশি উপযোগী।
পরিশেষে, উভয় অভীক্ষাই ব্যক্তির অবচেতন মনের স্বরূপ উদঘাটন করে ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও