বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আরিফ সাহেব অত্যন্ত রাশভারী লোক। তিনি যে কোম্পানিতে কাজ করেন, সেখানে তার আশেপাশে অনেক তেলবাজ, তোষামোদকারী কর্মচারী আছে। কিন্তু তিনি খুব স্পষ্টবাদী। কাউকে তোষামোদ করা তার স্বভাববিরুদ্ধ। ফলে তাকে অনেকে বেয়াদব এবং গোঁয়ার হিসেবে ভাবে।
- ক)(1)
"আমি আছি"-এটি কার কথা?
- খ)(2)
"আমার কর্ণধার আমি"-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের কোন বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে?
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের সম্পূর্ণভাব ধারণ করে" মন্তব্যটির সাথে তুমি কী একমত? আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আমি আছি"—এটি সত্যের কথা বা সত্যের দম্ভ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আমার কর্ণধার আমি"—উক্তিটির মাধ্যমে প্রাবন্ধিক বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁর জীবন পরিচালিত হয় তাঁর নিজস্ব বিবেক, আত্মবিশ্বাস ও সত্যের পথনির্দেশনায়; কোনো ভণ্ড নেতার অন্ধ অনুসরণে নয়।
মানুষ যখন নিজের আত্মশক্তি ভুলে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন সে পরাবলম্বী ও দাস হয়ে যায়। কাজী নজরুল ইসলাম নিজের জীবনতরীর চালক হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তি বা অন্ধ বিশ্বাসের হাতে নিজের বিবেক তুলে দিতে চাননি। তাঁর পথপ্রদর্শক তাঁর নিজস্ব সত্য ও আত্মোপলব্ধি। তাই নিজের সত্যকে জেনে নিজের গতিপথ নিজে নির্ধারণ করার প্রত্যয় থেকেই তিনি কথাটি বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের আত্মবিশ্বাস, সত্যের স্পষ্ট প্রকাশ এবং তোষামোদ না করার মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় সত্য কথা বলার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সত্যকে স্বীকার করাকে অনেকে অহংকার বা দম্ভ ভাবলেও তা আসলে সত্যের বলিষ্ঠ প্রকাশ। তোষামোদ, মিথ্যার পদলেহন কিংবা মেকি বিনয় মানুষকে আত্মমর্যাদাহীন ও ভীরু করে তোলে। তাই সত্যভাষী হওয়াকে সমাজের অনেকে বেয়াদবি মনে করলেও নজরুল সেই স্পষ্টবাদিতাকেই মানুষের আসল শক্তি বলেছেন।
উদ্দীপকের আরিফ সাহেবও তোষামোদকারী নন। তিনি সত্য ও স্পষ্ট কথা বলতে ভালোবাসেন এবং চাটুকারিতা তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ। এজন্য চারপাশের লোকেরা তাঁকে ভুল বুঝে 'বেয়াদব' বা 'গোঁয়ার' মনে করে। আরিফ সাহেবের এই স্পষ্টবাদিতা ও চাটুকারিতাহীন চরিত্রের মধ্যেই 'আমার পথ' প্রবন্ধের মিথ্যার বিনয়ের চেয়ে 'সত্যের অহংকার' ধারণ করার বক্তব্যটি যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের সম্পূর্ণভাব ধারণ করে"—মন্তব্যটির সাথে আমি একমত নই। কারণ উদ্দীপকটিতে প্রবন্ধের একটি নির্দিষ্ট দিক প্রতিফলিত হলেও সামগ্রিক ভাব প্রকাশ পায়নি।
উদ্দীপকে আরিফ সাহেবের স্পষ্টবাদিতা, তোষামোদ না করা এবং এর ফলে চারপাশের তেলবাজদের দ্বারা ভুল বোঝার শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের মেকি বিনয় বর্জন এবং স্পষ্ট কথা বলার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কাজী নজরুল ইসলামও মিথ্যার চেয়ে সত্যের দম্ভকে শ্রেয় মনে করেছেন।
তবে 'আমার পথ' প্রবন্ধের পরিধি উদ্দীপকের ভাবটির চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ও গভীর। প্রবন্ধে নজরুল শুধু স্পষ্টবাদিতার কথাই বলেননি, তিনি মানুষের মধ্যকার 'আমি'কে জাগ্রত করে পরনির্ভরশীলতা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন। গান্ধীজীর প্রতি অন্ধভক্তির সমালোচনা করে তিনি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। সর্বোপরি, প্রবন্ধে ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প দূর করে হিন্দু-মুসলমানের মিলন এবং একটি বৈষম্যহীন সম্প্রীতিময় সমাজ গঠনের সার্বজনীন বাণী উচ্চারিত হয়েছে। তিনি সত্যের মাধ্যমে আত্মশক্তিকে চেনার পাশাপাশি মানবতার জয়গান গেয়েছেন।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে কেবল আত্মমর্যাদা ও স্পষ্টবাদিতার বিষয়টি এসেছে; কিন্তু আত্মজাগরণ, ভণ্ডনেতৃত্ব বর্জন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির মতো প্রবন্ধের মূল ও বৃহদাকার দর্শন উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও