বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
7.1.
মাদকাসক্তির কুফল ও এর প্রতিকার বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
7.2.
অথবা, 'মানুষ মানুষের জন্য' শিরোনামে একটি খুদেগল্প লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৭.১. মাদকাসক্তির কুফল ও এর প্রতিকার বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:
স্থান: বিদ্যালয়ের মাঠের এক কোণ
চরিত্র: সজল ও ফাহিম
সজল: কী খবর ফাহিম? তোমাকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে!
ফাহিম: হ্যাঁ সজল, আমাদের পাশের পাড়ার রায়হান ছেলেটির কথা ভেবে খুব খারাপ লাগছে। ছেলেটা মাদকাসক্ত হয়ে পুরো পরিবারটাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সজল: ঠিক বলেছিস। মাদকাসক্তি বর্তমান সমাজের একটি ভয়াবহ ব্যাধি। এটি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই শেষ করে না, পুরো পরিবার ও সমাজের শান্তি কেড়ে নেয়।
ফাহিম: একদম তাই। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হৃদরোগ, ক্যানসার থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের বিকৃতি পর্যন্ত ঘটে।
সজল: শুধু স্বাস্থ্যহানিই নয়, মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে যুবসমাজ চুরি, ছিনতাই এমনকি খুনের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। নৈতিকতার সম্পূর্ণ অবক্ষয় ঘটছে।
ফাহিম: কিন্তু এই সর্বনাশা পথ থেকে যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনার উপায় কী?
সজল: প্রতিকারের জন্য প্রথমেই দরকার পারিবারিক সচেতনতা ও নৈতিক শিক্ষা। পরিবারের সদস্যদের সন্তানদের প্রতি যত্নশীল ও বন্ধুসুলভ হতে হবে।
ফাহিম: ঠিক বলেছিস। পাশাপাশি মাদকের অবৈধ চোরাচালান ও বিক্রি বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
সজল: হ্যাঁ, আর যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং গঠনমূলক সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। ইতিমধ্যে যারা আসক্ত হয়েছে, তাদের প্রতি ঘৃণা না দেখিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
ফাহিম: একদম যথার্থ বলেছিস। রাষ্ট্র ও সমাজ একসঙ্গে এগিয়ে আসলেই এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
সজল: ঠিক তাই। চলো, আমরাও আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলি।
ফাহিম: অবশ্যই। ধন্যবাদ সজল, খুব জরুরি বিষয়ে কথা হলো।
সজল: তোমাকেও ধন্যবাদ, ভালো থেকো।
৭.২. খুদেগল্প:
মানুষ মানুষের জন্য
শ্রাবণের অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে শহরের রাজপথগুলো প্রায় জলমগ্ন। রাত তখন প্রায় এগারোটা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা শুভ ছাতা মাথায় দিয়ে দ্রুত পায়ে বাসার দিকে ফিরছিল। গলির মোড়ে আসতেই আবছা অন্ধকারে ভেসে আসা এক হৃদয়বিদারক কান্নার শব্দ তার কানে পৌঁছাল। এগিয়ে গিয়ে সে দেখতে পেল, ফুটপাতের এক কোণে ছেঁড়া পলিথিনের নিচে ভিজে জবুথবু হয়ে বসে আছে অশীতিপর বৃদ্ধা রহিমা খাতুন। তীব্র জ্বরে তিনি কাঁপছিলেন এবং ব্যথায় গোঙাচ্ছিলেন।
রাস্তায় তখন যানবাহন নেই বললেই চলে। ক্ষণিকের জন্য শুভ ভাবল, এই দুর্যোগের রাতে একা একজন অচেনা বৃদ্ধাকে সাহায্য করতে গিয়ে সে কোনো ঝামেলায় পড়বে কি না। কিন্তু পরক্ষণেই তার বিবেকের দংশন শুরু হলো—"মানুষ যদি মানুষের বিপদে পাশে না দাঁড়ায়, তবে মনুষ্যত্বের কী মূল্য?"
দেরি না করে শুভ অনেক কষ্টে একটি সিএনজি ডেকে আনল। বৃদ্ধাকে পরম যত্নে তুলে নিয়ে গেল কাছের একটি সরকারি হাসপাতালে। ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় স্যালাইনের ব্যবস্থা করল। সারা রাত হাসপাতালের বারান্দায় বসে রোগীর পাশে নির্ঘুম কাটাল শুভ।
ভোরের আলো ফুটতেই বৃদ্ধা চোখ খুললেন। জ্বরের ঘোর কেটেছে, দৃষ্টিতে কিছুটা শক্তি ফিরে এসেছে। সামনে অচেনা তরুণ শুভকে দেখে সজল চোখে বৃদ্ধা তার হাত দুটি ধরে কেঁপে কেঁপে বললেন, "বাবা, তুমি কে? আমার নিজের ছেলে আমাকে ফেলে চলে গেছে, আর তুমি এই রাতে আমার প্রাণ বাঁচালে!"
শুভ মৃদু হেসে তাঁর কপালে হাত বুলিয়ে বলল, "খালাম্মা, মানুষ মানুষের জন্য। আপনি সুস্থ আছেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।" শুভর মনে হলো, নিঃস্বার্থভাবে একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বড় স্বর্গীয় সুখ পৃথিবীতে আর কিছুই হতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও