বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ গল্পে গফুরের প্রিয় গরুটির নাম মহেশ। দরিদ্র গফুর নিরীহ পশুটিকেঠিকমতো খাবারের জোগান দিতে পারে না। ফসল নষ্ট করার জন্য তাকে জমিদারের শাস্তিওপেতে হয়েছে। একদিন তৃষ্ণার্ত মহেশ পানির জন্য গফুরের মেয়ে আমিনার মাটির পাত্র ভেঙেফেলে। রাগান্বিত গফুর লাঙলের ফলা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। গোহত্যারপ্রায়শ্চিত্ত করতে গফুর রাতের আঁধারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
- ক)(1)
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথমে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
- খ)(2)
“গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম”- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
গফুরের জীবন-বাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের কোন ঘটনার সাদৃশ্য বিদ্যমান? বিশ্লেষণ কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের ‘গোহত্যা’ এবং গল্পের ‘অন্নপাপ’ একই সূত্রে গাঁথা”- তোমার মতামত আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথমে ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা মৃত্যুঞ্জয়ের আজীবন একাকী, নির্বিরোধ ও গ্রাম্য রাজনীতি থেকে দূরে থাকার বিষয়টিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
মৃত্যুঞ্জয় ছিল অনাথ এবং তার জ্ঞাতি-খুড়ো ছাড়া গ্রামে আর কোনো নিকট আত্মীয় ছিল না। সে আম-কাঁঠালের বাগান থেকে হওয়া সামান্য আয়ে শান্তভাবে নিজের মতো দিন কাটাত। কারো সাতে-পাঁচে থাকত না, কারও ক্ষতি করত না এবং গ্রামের পরশ্রীকাতরতার মধ্যেও নিজেকে জড়াত না। সমাজ তাকে অবহেলা করলেও সে কারও অনিষ্ট না করায় গ্রামের মানুষের কাছে সে কোনো উৎপাত ছিল না; এই শান্ত ও নির্লিপ্ত চরিত্রের কারণেই গ্রামবাসীর মাঝে তার এ ধরনের 'সুনাম' ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গফুরের জীবন-বাস্তবতার সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর সামাজিক নিপীড়ন ও বঞ্চনার বাস্তবতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকে দেখা যায়, চরম দারিদ্র্যপীড়িত গফুর পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার প্রাণপ্রিয় গরুকে আঘাত করে ফেলে এবং রক্ষণশীল সমাজের পাপের দোহাই ও প্রায়শ্চিত্তের ভয়ে ভিটেমাটি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সামাজিক নিষ্ঠুরতা ও আর্থিক অসহায়ত্বই ছিল তার ট্র্যাজেডির কারণ।
‘বিলাসী’ গল্পেও দেখা যায়, অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তুলেছিল নিচু জাতের মেয়ে বিলাসী। জাতপাত ও সমাজপতিদের মিথ্যা অনুশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রেম ও মানবিকতাকে জয়যুক্ত করায় গ্রাম্য সমাজপতিরা তাদের মেনে নেয়নি। বিলাসীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর বিলাসী বিষপানে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। গফুর যেমন কুসংস্কারাচ্ছন্ন শোষক সমাজের চাপে সর্বস্বান্ত হয়ে দেশান্তরী হয়, তেমনি বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ও সমাজের নিষ্ঠুর জাতপাতের শিকার হয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের ‘গোহত্যা’ এবং গল্পের ‘অন্নপাপ’ একই সূত্রে গাঁথা”—মন্তব্যটি সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে অত্যন্ত যথার্থ।
উদ্দীপকে অভাবী গফুরের হাত দিয়ে তৃষ্ণার্ত মহেশ ভুলবশত মারা গেলে সমাজপতিরা একে এক বিরাট ধর্মীয় পাপ বা 'গোহত্যা' হিসেবে চিহ্নিত করে। অথচ তারা গফুরের অনাহার ও অসহায়ত্বকে দূর করার কোনো চেষ্টা করেনি, বরং পাপের বোঝা চাপিয়ে তাকে সমাজছাড়া করেছে।
একইভাবে ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় যখন মরণাপন্ন অবস্থায় ছিল, তখন জাতের কোনো লোক তার খোঁজ নেয়নি। কিন্তু শূদ্র মালোর মেয়ে বিলাসী যখন নিজের জীবন বাজি রেখে সেবা করে তাকে বাঁচিয়ে তুলল এবং মৃত্যুঞ্জয় তার হাতের অন্ন গ্রহণ করল, অমনি গ্রামের রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ একে চরম 'অন্নপাপ' বা জাত হারানোর গুরুতর অপরাধ বলে শোরগোল তুলল। তারা মৃত্যুঞ্জয়কে রক্ষা করা বা তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার বদলে তাকে সম্পত্তিচ্যুত ও সমাজচ্যুত করতে উদ্যত হয়েছিল।
অতএব স্পষ্ট দেখা যায়, 'গোহত্যা' ও 'অন্নপাপ'—দুটি ধারণাই তৎকালীন সমাজের সুবিধাবাদী ও ভণ্ড সমাজপতিদের তৈরি কুসংস্কার এবং জাতপ্রথার অস্ত্র। মানবিক মূল্যবোধের চেয়ে ধর্মীয় গোঁড়ামি ও লোকদেখানো আচারকেই তারা বড় করে দেখে মানুষকে নিঃস্ব করেছিল। তাই বলা যায়, উভয় ঘটনাই শোষক সমাজের অমানবিকতার দিক থেকে একই সূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও