পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ঢাকা কলেজ • ঢাকা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
আসিফ, নাফিস ও ঝর্ণা পাঠগারে বসে আইন নিয়ে আলোচনায় প্রবৃত্ত হলো। আসিফ বলল, আইনের সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক খুব গভীর। কারণ নৈতিক দিক হতে আইন সমৃদ্ধ না হলে সে আইন কেউ মানতে চায় না। নাফিস তাকে সমর্থন করল এবং বলল যে, আইন রাষ্ট্রের ভিত্তি। তাই আইনকে অবশ্যই নৈতিকতা সমৃদ্ধ হতে হবে। ঝর্ণা বলল, আইনের শাসন না থাকলে সমাজে শান্তিতে বাস করা যায় না এবং মানুষের স্বাধীনতা ও সাম্য নিশ্চিত হয় না।
- ক)(1)
আইন কী?
- খ)(2)
আইন মেনে চলার কারণ কী?
- গ)(3)
আসিফের মতানুসারে আইন ও নৈতিকতার সম্পর্ক বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য সম্পর্কে ঝর্ণার বক্তব্য মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং সার্বভৌমিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎকৃত এমন কিছু নিয়মনীতি, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন মেনে চলার মূল কারণ হলো সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।
আইন মান্য না করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা এবং 'জোর যার মুল্লুক তার' অবস্থার সৃষ্টি হয়। মানুষ তার জীবন, সম্পত্তি ও স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় শাস্তির ভয়ে ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মেনে চলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আসিফের মতানুসারে আইন ও নৈতিকতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও পরিপূরক।
আসিফের বক্তব্য অনুযায়ী, নৈতিক দিক থেকে কোনো আইন সমৃদ্ধ না হলে জনগণ তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নিতে চায় না। আইন ও নৈতিকতা উভয়েরই মূল উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ সাধন এবং সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সমাজের প্রচলিত নৈতিক মূল্যবোধ থেকেই বহু আইনের উৎপত্তি হয়। যেমন—চুরি করা, প্রতারণা করা বা মিথ্যা বলা নৈতিকভাবে অন্যায় এবং আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আইনের পেছনে যদি নৈতিক সমর্থন না থাকে, তবে তা জনসাধারণের শ্রদ্ধাবোধ অর্জন করতে পারে না। ফলে জনগণ কেবল শাস্তির ভয়ে সাময়িকভাবে আইন মানলেও দীর্ঘমেয়াদে তা টেকসই হয় না। সুতরাং, আইনকে কার্যকারী ও জনপ্রিয় হতে হলে তা নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য সম্পর্কে ঝর্ণার বক্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ। আইনের শাসন বিদ্যমান না থাকলে স্বাধীনতা ও সাম্য কোনোটিই অর্জিত হতে পারে না।
ঝর্ণা যথার্থই বলেছে যে, আইনের শাসন সমাজে মানুষের স্বাধীনতা ও সাম্য নিশ্চিত করে। জন লকের মতে, 'যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।' আইন স্বাধীনতার পরিপন্থী নয়, বরং রক্ষক। আইন দুর্বলকে সবলের অত্যাচার থেকে রক্ষা করে এবং প্রত্যেকের জন্য সম-অধিকার ও নিরাপত্তা বিধান করে, যা সাম্যের মূল কথা।
আইনের শাসন অনুপস্থিত থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সবলেরা দুর্বলের অধিকার হরণ করে। ফলে সাম্য ও স্বাধীনতা বিনষ্ট হয়। আইনের নিরপেক্ষ ও সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমেই প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়। অতএব, সামাজিক শান্তি এবং মানুষের স্বাধীনতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ঝর্ণার পর্যবেক্ষণটি সম্পূর্ণ সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও