সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২১
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
ইউরোপের একটি রাষ্ট্র তাদের দেশের দরিদ্র ও ভবগুরেদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়ন করে। এই আইনে রাষ্ট্র দরিদ্রদের দায়িত্ব গ্রহণ করার পাশাপাশি অসচ্ছল দরিদ্রদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য স্বচ্ছল আত্মীয়-স্বজনকে বাধ্য করা হয়।
- ক)(1)
কোথায় সমাজকর্ম প্রেসার পরিপূর্ণতা পায়?
- খ)(2)
নগরায়ন কি?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি কোন বিখ্যাত দরিদ্র আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশে এই আইনের প্রয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তরাষ্ট্রে (USA) সমাজকর্ম পেশার পরিপূর্ণতা পায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিভিত্তিক ও গ্রামীণ জীবনব্যবস্থা থেকে শিল্পভিত্তিক ও শহরকেন্দ্রিক আধুনিক জীবনব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে নগরায়ণ বলা হয়। সহজ কথায়, গ্রামীণ এলাকার জনসংখ্যা ও জীবনযাত্রার শহরের বৈশিষ্ট্যে রূপান্তর লাভ করাই হলো নগরায়ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক ‘১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন’ (Poor Law 1601)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে দরিদ্র ও ভবঘুরে সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং সক্ষম ব্যক্তিদের কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ আইনে দরিদ্রদের তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়—সক্ষম দরিদ্র, অক্ষম দরিদ্র ও নির্ভরশীল শিশু। আইনটির অন্যতম মূল শর্ত বা ধারা ছিল, কোনো অসচ্ছল দরিদ্র ব্যক্তির যদি সচ্ছল পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি বা দাদা-দাদী থাকে, তবে রাষ্ট্র তাদের সহায়তা করার পূর্বে সেই সচ্ছল আত্মীয়-স্বজনকেই তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করবে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ইউরোপের রাষ্ট্রটি দরিদ্র ও ভবঘুরেদের সমস্যা সমাধানে আইন করে নিজেরা দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি সচ্ছল আত্মীয়-স্বজনদের তাদের অসচ্ছল সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করে। অতএব, উদ্দীপকের আইনটির মূল সুর ও বৈশিষ্ট্য ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত আইনটি হলো ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন, যার মূল ভিত্তি ছিল দরিদ্রদের শ্রেণিবিন্যাস করে রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও সহায়তার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আইনের সরাসরি শতভাগ প্রয়োগ চ্যালেঞ্জিং হলেও এর মূল চেতনার প্রয়োগ যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক ও সম্ভাব্য।
প্রথমত, বাংলাদেশে এখনও বহু মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে এবং দেশে ভিক্ষাবৃত্তি ও ভবঘুরে একটি সামাজিক সমস্যা। বাংলাদেশে ‘ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি (পুনর্বাসন) আইন, ২০১১’ এবং ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ বিদ্যমান রয়েছে। উদ্দীপকের আইনে যেমন সচ্ছল আত্মীয়কে অসচ্ছলদের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করার কথা বলা হয়েছে, বাংলাদেশেও ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন অনুযায়ী সন্তানদের ওপর পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে, যা এলিজাবেথীয় আইনের নীতিমালার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সীমিত রাষ্ট্রীয় সম্পদের কারণে ইউরোপীয় মডেলের মতো প্রতিটি দরিদ্র ব্যক্তির সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেওয়া হয়তো পুরোপুরি সম্ভব নয়। তবে সক্ষম দরিদ্রদের কাজ দেওয়া, অক্ষম দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর (যেমন- বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা) আওতায় আনা এবং এতিম-অনাথ শিশুদের পুনর্বাসনের মতো দিকগুলো বাংলাদেশে সফলভাবে প্রয়োগযোগ্য ও বর্তমানে আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, হুবহু প্রাচীন ব্রিটিশ আইনের অবকাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও এর নীতিগত আদর্শ—পারিবারিক দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, দরিদ্রের সক্ষমতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান এবং সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা—বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ইতিবাচক ও কার্যকরভাবে প্রয়োগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও