ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মুন্সিগঞ্জের ৪০ জন আলুচাষি ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির লক্ষ্যে একত্রিত হয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। পাঁচ বছরে তাদের মূলধন দাঁড়ায় ২৫ লক্ষ টাকা । ৬ষ্ঠ বছরে মোট মুনাফা ১,০০,০০০ টাকা হতে ১৫,০০০ টাকা তাদের সংরক্ষিত তহবিলে এবং ৩,০০০ টাকা উন্নয়ন তহবিলে জমা করেন। অবশিষ্ট টাকা সদস্যরা নিজেদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে নিলেন।
- ক)(1)
সমবায় সমিতি কী?
- খ)(2)
একতাই বল সমবায়ের মূলমন্ত্র'- ব্যাখ্যা কর
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের সমবায় সমিতি? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিভিন্ন তহবিলে টাকা সংরক্ষণের পরিমাণ যথাযথ কি না? সমবায় আইন বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমমনা ও সমশ্রেণির কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে সমবায় আইনের অধীনে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে যে গণতান্ত্রিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, তাকে সমবায় সমিতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'একতাই বল সমবায়ের মূলমন্ত্র'- কথাটির অর্থ হলো বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল ব্যক্তিরা একত্রিত হলে তা এক মহাশক্তিতে পরিণত হয়, যা তাদের যৌথ কল্যাণ নিশ্চিত করে।
সমবায় মূলত সমাজের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রতিষ্ঠান। এককভাবে যাদের পক্ষে বড় মূলধন বিনিয়োগ বা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না, তারা সম্মিলিত হয়ে পরস্পরের সহযোগিতায় নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে পারে। ফলে সদস্যদের পারস্পরিক ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই সমবায়ের শক্তি হিসেবে কাজ করে, যা এর মূল ভিত্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি 'কৃষি সমবায় সমিতি' বা উৎপাদক সমবায় সমিতি।
কৃষি পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ যেমন কৃষক বা চাষিরা কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রক্ষা পাওয়া এবং নিজেদের সার্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের উদ্দেশ্যে যে সমবায় সমিতি গঠন করে, তাকে কৃষি সমবায় সমিতি বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মুন্সিগঞ্জের ৪০ জন আলুচাষি নিজেদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির অভিন্ন উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে একটি সংগঠন বা সমিতি গড়ে তুলেছেন। যেহেতু সদস্যরা প্রত্যেকেই চাষি এবং কৃষিজাত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের লক্ষ্যেই তারা একত্রিত হয়েছেন, তাই এটি একটি কৃষি বা উৎপাদক সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিভিন্ন তহবিলে টাকা সংরক্ষণের পরিমাণ সমবায় আইন অনুযায়ী যথাযথ হয়নি।
বাংলাদেশের ২০০১ সালের সমবায় আইন (সংশোধিত ২০১৩) এর ৩৪ ধারা অনুযায়ী, সমবায় সমিতির অর্জিত বাৎসরিক নিট মুনাফার কমপক্ষে ১৫% সংরক্ষিত বা সাধারণ তহবিলে (Reserve Fund) জমা রাখতে হবে। এছাড়া সমবায় উন্নয়ন তহবিলে (Co-operative Development Fund) মোট মুনাফার কমপক্ষে ৩% সংরক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
উদ্দীপকে সমিতির ৬ষ্ঠ বছরে মোট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ১,০০,০০০ টাকা। এর মধ্যে:
১. সংরক্ষিত তহবিলে জমা রাখা হয়েছে ১৫,০০০ টাকা, যা মোট মুনাফার (১৫,০০০ ÷ ১,০০,০০০ × ১০০) = ১৫%। এটি আইনসম্মত হয়েছে।
২. সমবায় উন্নয়ন তহবিলে জমা রাখা হয়েছে ৩,০০০ টাকা, যা মোট মুনাফার (৩,০০০ ÷ ১,০০,০০০ × ১০০) = ৩%। এটিও তহবিলে রাখার আইনসম্মত হার।তবে মুনাফা বণ্টনের ক্ষেত্রে গুরুতর অসংগতিটি ঘটেছে অবশিষ্ট টাকা বণ্টনে। সমবায় আইন অনুযায়ী, উক্ত সংবিধিবদ্ধ তহবিলসমূহে অর্থ জমা রাখার পর অবশিষ্ট মুনাফার সম্পূর্ণ অংশ সদস্যদের মাঝে সরাসরি 'সমানভাগে' বণ্টন করা যায় না। আইন অনুযায়ী মুনাফার বণ্টন শেয়ার ধারণের অনুপাত বা সমিতির সাথে সদস্যদের লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে হতে হয় এবং আইনানুগ সর্বোচ্চ লভ্যাংশ প্রদানের সীমা বজায় রাখতে হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, অবশিষ্ট টাকা সদস্যরা নিজেদের মধ্যে স্রেফ সমানভাগে ভাগ করে নিয়েছেন, যা শেয়ার অনুপাতে বণ্টন না করায় বিধিসম্মত হয়নি।
অতএব, তহবিলে অর্থ সংরক্ষণের শতকরা হার ঠিক থাকলেও মুনাফা বণ্টনের সার্বিক আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনায় এটি যথাযথ হয়নি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও