ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ ঘুরির মৃত্যুর পর কুতুবউদ্দিন আইবেক সুলতান হিসেবে মনোনীত হন। তিনি দেশ জয়ের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের পরিধিকে আরো বিস্তৃত করেন। তিনি শুধু একজন বিজেতাই ছিলেন না বরং একজন সফল প্রশাসকও ছিলেন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার সাধন করে একটি শক্তিশালী প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। মূলত তার শাসনামলেই ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন পূর্ণতা লাভ করে।
- ক)(1)
উষ্ট্রের যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
'বায়তুল মাল' বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাসকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের মিল রয়েছে? বাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শাসকের চেয়ে উত্ত খলিফা ছিলেন আরও অধিকতর সফল প্রশাসক উক্তিটিকে তুমি কি সমর্থন কর? যুক্তিসহ তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উষ্ট্রের যুদ্ধ ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বায়তুল মাল' শব্দের অর্থ রাজকোষ বা সরকারি তহবিল। খোলাফায়ে রাশেদিনের আমলে এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ লাভ করে। যুদ্ধলব্ধ মালামাল (গনিমত), যাকাত, জিজিয়া, খারাজ, উশর প্রভৃতি উৎস থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব বায়তুল মালে জমা হতো এবং তা জনকল্যাণ, সামরিক ব্যয়, দরিদ্রদের সাহায্য ও প্রশাসনিক কাজে ব্যয় করা হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত কুতুবউদ্দিন আইবেকের সাথে পাঠ্যবইয়ের ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর মিল রয়েছে।
কুতুবউদ্দিন আইবেক যেমন সাম্রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার সাধন করে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি প্রদান করেন, তেমনি খলিফা হযরত ওমর (রা.)-ও খেলাফতের সীমানা বহু দূর বিস্তৃত করার পাশাপাশি একটি চমৎকার ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন।
হযরত ওমর (রা.) সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত করেন, গভর্নর (ওয়ালী) ও কাজী নিয়োগ করেন, রাজস্ব ব্যবস্থার সুষম বণ্টন ও বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন এবং পুলিশ ও বিচার বিভাগকে স্বতন্ত্র রূপ দেন। উদ্দীপকের আইবেকের ন্যায় হযরত ওমর (রা.) ছিলেন একাধারে বিজয়ী ও অত্যন্ত সফল এক জনকল্যাণকামী প্রশাসক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, "উদ্দীপকের শাসকের চেয়ে উক্ত খলিফা ছিলেন আরও অধিকতর সফল প্রশাসক"—উক্তিটি যথার্থ এবং আমি এটি সমর্থন করি।
কুতুবউদ্দিন আইবেক ভারতে দাস বংশ প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম শাসনের ভিত্তি মজবুত করেছিলেন বটে, তবে খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর প্রশাসনিক সাফল্য ছিল বিশ্ব ইতিহাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। হযরত ওমর (রা.) মাত্র দশ বছরের শাসনামলে রোমান ও পারস্যের মতো পরাশক্তিকে পরাজিত করে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। বিশাল এই সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য তিনি একটি কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন।
তিনি বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করেন, যা আইনের শাসনের মূলভিত্তি। তিনি 'মজলিস-উশ-শুরা' বা পরামর্শ সভার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। এছাড়া জনকল্যাণে রাস্তাঘাট, খাল খনন, ডাক বিভাগ, সামরিক দুর্গ ও নতুন নতুন শহর পত্তন করেন। তাঁর সততা, জবাবদিহিতা ও প্রজার অধিকার সংরক্ষণের নীতি বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
সুতরাং সামগ্রিক দিক বিবেচনা করলে কুতুবউদ্দিন আইবেকের চেয়ে খলিফা হযরত ওমর (রা.) ছিলেন অনেক বেশি দূরদর্শী, ন্যায়পরায়ণ এবং সফল এক কালজয়ী প্রশাসক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও