গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পথ্য কাকে বলে?
- খ)(2)
হৃদরোগে কেন কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানটি কোন রোগের নির্দেশ করে? এ রোগের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের লক্ষণগুলো তোমার বন্ধুর মধ্যে দেখা দিলে তার জন্য যে তথ্য পরিকল্পনা করবে তার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের লক্ষণ ও পুষ্টি চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত বিশেষ খাদ্য বা খাবারকেই পথ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি জমা হওয়া ক্ষতিকর। বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে শরীরে চর্বি জমে ওজন বৃদ্ধি পায় এবং রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, যা হৃৎপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ কমানোর জন্য হৃদরোগে কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানটি 'ডায়াবেটিস' (বা বহুমূত্র) রোগকে নির্দেশ করে।
ডায়াবেটিস রোগের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. বংশগতি: পরিবারে পিতা-মাতা বা রক্তের সম্পর্কের কারও ডায়াবেটিস থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধি পায়।
২. স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন: শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়।
৩. অলস জীবনযাপন: কায়িক পরিশ্রমের অভাব বা অলস জীবনযাপনের ফলে শরীরে শক্তির অপচয় কম হয় এবং ওজন বাড়ে, যা ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ।
৪. রোগ সংক্রমণ বা অন্যান্য কারণ: অগ্ন্যাশয়ে কোনো রোগ সংক্রমণ হলে বা ইনসুলিন নিঃসরণকারী বিটা কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইনসুলিনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং ডায়াবেটিস হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কারণগুলো থেকে বোঝা যায় বন্ধুটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তার জন্য একটি সঠিক ও সুষম পথ্য পরিকল্পনা করা অত্যন্ত জরুরি। নিচে তার জন্য প্রস্তাবিত পথ্য পরিকল্পনার স্বরূপ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ: বন্ধুর বয়স, উচ্চতা, ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করে দৈনিক ক্যালরির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে যাতে তার শরীরের ওজন স্বাভাবিক থাকে।
২. শর্করা নিয়ন্ত্রণ: চিনি, মিষ্টি, গুড়, কোমল পানীয় প্রভৃতি সরল শর্করা সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। তবে জটিল শর্করা যেমন—লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি ইত্যাদি পরিমিত মাত্রায় দেওয়া যেতে পারে।
৩. পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাদ্য: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি (যেমন—করলা, শসা, ঢ্যাঁড়শ, পালংশাক) ও টক জাতীয় ফল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আঁশযুক্ত খাদ্য রক্তে গ্লুকোজের শোষণ ধীর করে।
৪. স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রণ: প্রাণিজ চর্বি ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পরিহার করে উদ্ভিজ্জ তেল (যেমন—সয়াবিন, সরিষা, অলিভ অয়েল) পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।
৫. নিয়মিত খাদ্য গ্রহণের সময়সূচি: নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যাতে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ কমে বা বেড়ে না যায়।সুতরাং, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ, মিষ্টি পরিহার এবং সঠিক পথ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই বন্ধুটি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও