ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
উনবিংশ শতাব্দীর শেষে ইহুদি সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠনগুলো একটি পৃথক আবাসভূমির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর ১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে এক ঘোষণায় প্যালেস্টাইনে একটি ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের কথা বলেন। সেই মর্মে ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ক)(1)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
- খ)(2)
অসহযোগ আন্দোলন কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইহুদি সম্প্রদায়ের পৃথক আবাসভূমির দাবির ন্যায় ভারতের কোন সম্প্রদায় তাদের জন্য আলাদা আবাসভূমির জন্য প্রস্তাব পেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মত উক্ত প্রস্তাব কি একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছিল? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালে (১ জুলাই) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অসহযোগ আন্দোলন হলো ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯২০ সালে সূচিত একটি অহিংস গণআন্দোলন। রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড এবং খিলাফত প্রশ্নের অবিচারের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের সাথে সব ধরনের সহযোগিতা (সরকারি পদবি, স্কুল-কলেজ, আদালত ও বিদেশি পণ্য বর্জন) বর্জনের ডাক দেওয়া হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইহুদি সম্প্রদায়ের পৃথক আবাসভূমির দাবির ন্যায় ভারতের 'মুসলিম সম্প্রদায়' তাদের জন্য আলাদা আবাসভূমির জন্য প্রস্তাব পেশ করে। এই প্রস্তাবটি ইতিহাসে 'লাহোর প্রস্তাব' নামে পরিচিত।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবে বলা হয়, ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ গঠন করতে হবে।
উদ্দীপকে যেমন ইহুদিরা তাদের জাতিসত্তার ভিত্তিতে পৃথক আবাসভূমি দাবি করেছিল এবং বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে তা ত্বরান্বিত হয়েছিল, তেমনি ব্রিটিশ ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ও দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে নিজেদের জাতীয় পরিচয় ও অধিকার রক্ষায় লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে পৃথক আবাসভূমির রূপরেখা তুলে ধরেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের মতো উক্ত প্রস্তাবটি (লাহোর প্রস্তাব) শেষ পর্যন্ত একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছিল। নিচে এ বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হলো:
১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ভারতীয় রাজনীতির গতিপথ সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দেয়। এর আগে মুসলিম লীগের দাবি মূলত আইনসভা ও চাকরিতে মুসলমানদের অধিকার এবং স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে মুসলমানরা কেবল একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নয়, তারা একটি স্বতন্ত্র জাতি এবং তাদের পৃথক আবাসভূমি প্রয়োজন।
যদিও মূল প্রস্তাবে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের (States) কথা বলা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালের দিল্লি কনভেনশনে সংশোধনের মাধ্যমে একক 'পাকিস্তান' রাষ্ট্রের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে তীব্র রাজনৈতিক সংগ্রাম গড়ে ওঠে। ব্রিটিশ সরকার ও কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত মুসলিমদের এই দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট লাহোর প্রস্তাবের মূল ধারণার ভিত্তিতে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মতোই ভারতে মুসলিমদের উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাব একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও