‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

রানি এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রাজপ্রাসাদের একটি অংশ সাময়িক সময়ের জন্য দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। 'ক' সাহেব ও তার স্ত্রী রাজপ্রাসাদে বেড়াতে গেলে তারা দেখতে পান মহারানি ভিক্টোরিয়ার একটি ছবির নিচে লেখা 'ভারত সম্রাজ্ঞী'। স্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে 'ক' সাহেব বলেন, ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে এক রাজকীয় ঘোষণায় ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতবর্ষের শাসনভার মহারানি ভিক্টোরিয়া স্বহস্তে গ্রহণ করেন।

  1. ক)

    ভারতের শেষ মোঘল সম্রাট কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের মহাবিদ্রোহের কারণ কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দের মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাটি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    মহারানির উক্ত রাজকীয় ঘোষণার ফলে ভারতে শাসনতান্ত্রিক কী পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতের শেষ মোঘল সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ (বাহাদুর শাহ জাফর)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের মহাবিদ্রোহ ছিল দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে লর্ড ডালহৌসির স্বত্ববিলোপ নীতি ও অযোধ্যা দখল, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ ও হস্তশিল্প ধ্বংস, সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে ভারতীয়দের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা এবং সামরিক ক্ষেত্রে ভারতীয় সিপাহিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এই বিদ্রোহের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। সবশেষে এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের গুজব বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দের মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাটি ছিল ভারতের শাসনব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে মহারানির প্রত্যক্ষ শাসন প্রতিষ্ঠা করে।

    ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর এলাহাবাদে এক ঐতিহাসিক দরবারে ভারতের প্রথম ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং মহারানি ভিক্টোরিয়ার এই বিখ্যাত ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। এতে ভারতীয় প্রজাদের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্যান্য সাধারণ নাগরিকের সমান অধিকার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ঘোষণায় দেশীয় রাজ্যগুলোর সাথে সম্পাদিত চুক্তি রক্ষা, রাজ্য বিস্তার নীতি পরিত্যাগ, ধর্মীয় নিরপেক্ষতা রক্ষা, ভারতীয়দের যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ এবং ভারতীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহারানি ভিক্টোরিয়ার রাজকীয় ঘোষণার ফলে ভারতে সুদূরপ্রসারী শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।

    প্রথমত, এই ঘোষণার মাধ্যমে ভারতে প্রায় এক শতাব্দীর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বৈত ও বাণিজ্যিক শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের হাতে হস্তান্তরিত হয়।

    দ্বিতীয়ত, ব্রিটেনের মন্ত্রিসভার একজন সদস্য হিসেবে 'ভারত সচিব' (Secretary of State for India) পদ সৃষ্টি করা হয় এবং তাকে সহায়তা করার জন্য ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি 'ভারত পরিষদ' (Council of India) গঠিত হয়।

    তৃতীয়ত, ভারতে ব্রিটিশদের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ 'গভর্নর জেনারেল'-এর পদমর্যাদা বৃদ্ধি করে তাকে মহারানির ব্যক্তিগত প্রতিনিধি হিসেবে 'ভাইসরয়' (Viceroy) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। লর্ড ক্যানিং হন ভারতের প্রথম ভাইসরয়।

    চতুর্থত, দেশীয় রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে আগ্রাসী সম্প্রসারণ নীতি বা স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করা হয় এবং দত্তক গ্রহণের অধিকার পুনরায় প্রদান করা হয়। একই সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুনর্গঠন করে ইউরোপীয় সেনার অনুপাত বাড়ানো হয় যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বিদ্রোহ না ঘটে। সার্বিকভাবে, এর ফলে ব্রিটিশদের প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের এক নতুন যুগের সূচনা হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন