ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
মি.শেফার্ড তার নিজ সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা আবাসভূমি গঠনের লক্ষেশাসক শ্রেণির নিকট একটি প্রস্তাব পেশ করেন। এই প্রস্তাবে বলেন যে, একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে, অঙ্গারাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় মি, শেফার্ডের প্রস্তাবকে 'পাপ কাজ' বলে মন্তব্য করে।
- ক)(1)
লর্ড কার্জনের প্রকৃত নাম কী?
- খ)(2)
বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মি. শেফার্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ব্যক্তির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ব্যক্তির পেশকৃত প্রস্তাবের ফলাফল বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড কার্জনের প্রকৃত নাম জর্জ নাথানিয়েল কার্জন (George Nathaniel Curzon)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ এবং কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র স্বদেশী আন্দোলন ও বয়কট আন্দোলন শুরু করে। এছাড়া ব্রিটিশ পণ্যের বয়কট ও চরমপন্থী সশস্ত্র বিপ্লবীদের তৎপরতায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরিশেষে হিন্দু অভিজাত ও ব্যবসায়ী শ্রেণীর রাজনৈতিক চাপ এবং সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়ে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে বঙ্গভঙ্গ রদ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. শেফার্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে ‘একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র’ গঠনের দাবি সম্বলিত ‘লাহোর প্রস্তাব’ পেশ করেন। এই প্রস্তাবে অঙ্গরাজ্যগুলোকে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম করার কথা বলা হয়েছিল। অপরদিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস ও তাদের নেতারা এই প্রস্তাবের চরম বিরোধিতা করেন এবং মহাত্মা গান্ধী একে ‘ভারতের অঙ্গচ্ছেদ’ বা পাপ কাজ বলে আখ্যা দেন।
উদ্দীপকের মি. শেফার্ডও নিজ সম্প্রদায়ের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর সার্বভৌমত্বসহ একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রস্তাব দেন, যাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় 'পাপ কাজ' বলে অভিহিত করে। সুতরাং, ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপক হিসেবে মি. শেফার্ডের ভূমিকা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক পেশকৃত ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’-এর ফলাফল ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পরিবর্তনকারী। নিম্নে এর ফলাফল বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মুসলিম রাজনীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ: লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপরেখা আমূল বদলে যায়। স্বায়ত্তশাসনের চেয়ে তারা একটি স্পষ্ট ভৌগোলিক আবাসভূমির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে।
২. পাকিস্তান আন্দোলনের ভিত্তি: এই প্রস্তাব অনুযায়ী পরবর্তীতে মুসলিম লীগ ভারতের বুকে মুসলিমদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে জোরালো করে, যা 'পাকিস্তান আন্দোলন' নামে পরিণতি লাভ করে।
৩. কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের বিভাজন চূড়ান্তকরণ: কংগ্রেস ও গান্ধীজি এই প্রস্তাবকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যায় এবং ভারত বিভাগের পথ সুগম হয়।
৪. ১৯৪৭ সালের দেশভাগ: লাহোর প্রস্তাবের চূড়ান্ত ফল হিসেবে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ব্রিটিশরা ভারত ভাগ করতে বাধ্য হয় এবং পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
৫. বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বপন: মূল প্রস্তাবে ‘States’ বা একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে দিল্লির কনভেনশনে এটিকে একবচনে রূপান্তর করে একক পাকিস্তান গঠন করা হলেও, বাঙালির মনে লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য অনুযায়ী আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের চেতনা জাগ্রত ছিল, যা ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অন্যতম ঐতিহাসিক প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
অতএব, এ. কে. ফজলুল হক পেশকৃত প্রস্তাবটির ফলাফল উপমহাদেশের মানচিত্র পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও