সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্য নদী নালায় ফেলার কারনে পানি দুর্গন্ধযুক্ত, মাছশূন্য হওয়ার পাশাপাশি দোয়ার বাতাস দূষিত ও স্বাস্থ্য শক্তিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া সবুজ বনাঞ্চল ধ্বংস ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ঘনঘন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোন এর মতো দুর্যোগ প্রায়শই ঘটছে। তবে বৃক্ষ নিধন রোধ করে 'গাছ লাগাও পরিবেশ রক্ষা কর' এই স্লোগানের সঠিক বাস্তবায়ন ঝুঁকি কমানোর সহায়ক।

  1. ক)

    প্রতিবছর কত তারিখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    গ্রীন হাউজ ইফেক্ট বলতে কি বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পরিবর্তন চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষা ও ঝুঁকি মোকাবেলায় সমাজকর্মীদের ভূমিকা আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রিন হাউস ইফেক্ট (Greenhouse Effect) হলো এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে থাকা কিছু গ্যাস (যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি) সূর্য থেকে আগত তাপ আটকে রেখে পৃথিবীপৃষ্ঠকে উষ্ণ রাখে। কিন্তু মানুষের অবিবেচক কর্মকাণ্ডের কারণে এসব গ্যাসের পরিমাণ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সৃষ্টি করছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক কারণে পরিবেশের যে ভারসাম্যহীনতা ও জলবায়ু পরিবর্তন ঘটেছে, তাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    শিল্পবর্জ্যের কারণে পানি ও বায়ুদূষণ এবং নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশের চরম বিপর্যয় ঘটছে। পরিবেশের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও ক্ষতিকর পরিবর্তনকে পরিবেশ দূষণ এবং সামগ্রিক অর্থে 'জলবায়ু পরিবর্তন' (Climate Change) বলা হয়। উদ্দীপকে গাছপালা কেটে ফেলা এবং কলকারখানার দূষণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার দৃশ্যটি ফুটে উঠেছে, যার পরিণতি হিসেবে ঘন ঘন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সমাজকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাজকর্মীরা পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করে নিম্নলিখিত ভূমিকা পালন করতে পারেন:

    ১. সচেতনতা সৃষ্টি: সমাজকর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলেন। 'গাছ লাগাও পরিবেশ রক্ষা কর' স্লোগানকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিতে তারা উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেন।
    ২. গণবনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন: বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করা এবং নির্বিচারে বৃক্ষনিধন রোধে কমিউনিটি পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করেন।
    ৩. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন: বাংলাদেশে প্রায়শই বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ দেখা দেয়। দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রচার, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সমাজকর্মীরা সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন।
    ৪. নীতি ও আইন প্রয়োগে ভূমিকা: পরিবেশ দূষণকারী শিল্পবর্জ্য অপসারণে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে নীতি নির্ধারকদের সাথে অ্যাডভোকেসি পরিচালনা করেন।

    সুতরাং, সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় সমাজকর্মীদের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন