সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ আমাদের এ বাংলাদেশ। নদী ও পাহাড় এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নয়নাভিরাম করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনে বৈচিত্র্য এনেছে। মানুষের ঘরবাড়ির ধরন, পোশাক- পরিচ্ছদ, যাতায়াত ব্যবস্থা সব কিছুতেই বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়, পেশায়ও রয়েছে ভিন্নতা। আর এই সবকিছুই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে বহুমাত্রিকতা।
- ক)(1)
কোন অঞ্চল মানুষের বসবাসের জন্য উপযোগী?
- খ)(2)
বংশগতি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী কোন উপাদানকে ইঙ্গিত করে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদানটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমতল বা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল মানুষের বসবাসের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পিতামাতার শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যসমূহ তাদের সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়, তাকে বংশগতি (Heredity) বলে।
বংশগতির মাধ্যমে মানুষ তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে রক্তের গ্রুপ, গায়ের রং, চোখের মণির রং, উচ্চতা, চুল ও মুখাবয়বের মতো শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং বুদ্ধিমত্তা ও মেধার মতো মনস্তাত্ত্বিক গুণাবলি জিন (gene)-এর মাধ্যমে জন্মসূত্রে লাভ করে। মানব আচরণ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে বংশগতি অন্যতম প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী 'ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশ' উপাদানকে ইঙ্গিত করে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ভৌগোলিক পরিবেশ হলো সমাজজীবনের ভিত্তিপ্রস্তর, যা কোনো অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, মৃত্তিকা, জলবায়ু, নদনদী, পাহাড়-পর্বত ও প্রাকৃতিক সম্পদ ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত। মানুষের জীবনযাপন, অর্থনীতি ও সামাজিক সংগঠন ভৌগোলিক পরিবেশ দ্বারা গভীরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, ব-দ্বীপ বাংলাদেশের নদী, পাহাড়, উর্বর ভূমি কৃষি উৎপাদনে বৈচিত্র্য এনেছে। পাশাপাশি মানুষের ঘরবাড়ির ধরন, পোশাক-পরিচ্ছদ, যাতায়াত ব্যবস্থা ও পেশাগত ভিন্নতা—সবকিছুতেই নদী ও মাটির প্রকৃতি অর্থাৎ ভৌগোলিক পরিবেশ প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করছে। সুতরাং, উদ্দীপকটি সমাজজীবনে ভৌগোলিক উপাদানের প্রত্যক্ষ প্রভাবকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজজীবনে উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদানটির অর্থাৎ 'ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশ'-এর গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পেশা নির্ধারণ: ভৌগোলিক পরিবেশ মানুষের জীবিকা নির্ধারণ করে। নদীমাতৃক ও উর্বর পললভূমির কারণে বাংলাদেশে কৃষি প্রধান পেশা হিসেবে গড়ে উঠেছে, আবার উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্যজীবী পেশার প্রাধান্য দেখা যায়।
২. মানববসতি ও নগরায়ণ: ভৌগোলিক অনুকূলতা মানুষের বসতি স্থাপনের প্রধান শর্ত। নদীতীরবর্তী সমতল ভূমিতে ঘনবসতি এবং যোগাযোগ সুবিধার কারণে শহর-নগর দ্রুত গড়ে ওঠে।
৩. পোশাক ও খাদ্যাভ্যাস: জলবায়ু মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণ হওয়ায় এখানে সুতি বস্ত্রের প্রচলন বেশি এবং ধান ও মাছের প্রাচুর্যের কারণে ভাত-মাছ প্রধান খাদ্য।
৪. ঘরবাড়ির ধরন: প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর নির্ভর করে মানুষের বাসগৃহের ধরন। যেমন—নদীভাঙন ও বন্যার কারণে এদেশে সহজে স্থানান্তরযোগ্য ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়।
৫. যাতায়াত ও সংস্কৃতি: নদীবিধৌত হওয়ার কারণে এদেশে নৌপথের যোগাযোগ অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিকশিত হয়েছে। ভৌগোলিক রূপ মানুষের শিল্প-সাহিত্য, গান (যেমন ভাটিয়ালি গান) ও দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
পরিশেষে বলা যায়, মানবসমাজের উদ্ভব, বিকাশ ও ধারাবাহিকতায় ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব মৌলিক এবং অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও