বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
“ধলেশ্বরী নদীর তীরে পিসিদের গ্রামতাঁর দেওরের মেয়েঅভাগার সাথে তার বিবাহ ছিল ঠিকঠাকলগ্ন শুভ, নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেলসেই লগ্নে এসেছি পালিয়ে।মেয়েটা তো রক্ষা পেলআমি তথৈবচঘরেতে এলো না সে তো, মনে তার নিত্য আসা যাওয়াপরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর।”
- ক)(1)
কল্যাণীর পিতার নাম কী?
- খ)(2)
“ঠাট্টা তো আপনিই করিয়া সারিয়াছেন।”-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
অনুপমের কল্পনায় অপরিচিতার সাথে উদ্দীপকের মেয়েটির তুলনা কর।
- ঘ)(4)
‘সেই লগ্নে এসেছি পালিয়ে’- এ চরণের আলোকে বুঝিয়ে লেখ যে, উদ্দীপকের নায়কের মতো অনুপমের বিরহের জন্য নিজের অক্ষমতাই দায়ী।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কল্যাণীর পিতার নাম শম্ভুনাথ সেন (বা শম্ভুনাথ বাবু)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন অনুপমের মামাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন।
অনুপমের মামা বিয়ের আসরে বরপক্ষ হিসেবে কন্যার গায়ের গহনা পরখ করার জন্য স্যাকরা নিয়ে এসেছিলেন। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন কনেপক্ষ হয়তো খাঁটি সোনার অলংকার দেয়নি। একজন সম্ভ্রান্ত পিতা হিসেবে কন্যার বিয়ের আসরে এমন আচরণ শম্ভুনাথ বাবুর কাছে চরম অপমানজনক মনে হয়। তাই মামা যখন বললেন গহনা যাচাই করা কোনো অপমান নয়, তখন শম্ভুনাথ বাবু ব্যঙ্গ করে বলেন যে, বরপক্ষ নিজেরাই এমন হীন কাজের মাধ্যমে সম্পর্কের পবিত্রতাকে ঠাট্টা ও অপমানে পরিণত করে ফেলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অনুপমের কল্পনায় 'অপরিচিতা' তথা কল্যাণীর রূপ এবং উদ্দীপকের মেয়েটির স্মৃতি-কল্পনার মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর অনুপম কল্যাণীকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হারায়। কিন্তু তার মনে কল্যাণীর একটি অপার্থিব, রহস্যময় ও চিরন্তন নারীর রূপ প্রতিষ্ঠিত হয়। ট্রেনের কামরায় কল্যাণীর মিষ্টি কণ্ঠস্বর এবং পরবর্তীতে সমাজসেবার কাজে নিয়োজিত এক দৃপ্ত রূপ অনুপমের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন লাভ করে। অনুপমের মানসপটে কল্যাণী ছিল অপূর্ণ প্রেমের চিরন্তন প্রতিচ্ছবি।
উদ্দীপকের নায়ক বিয়ের লগ্ন থেকে পালিয়ে এলেও তার মনে সেই মেয়েটির নিত্য আসা-যাওয়া রয়েছে। কল্পনায় সে মেয়েটিকে 'পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর'—এই চিরন্তন বধূরূপে দেখে। অনুপমের মনেও কল্যাণী বাস্তব জীবনের বধূ হতে না পারলেও হৃদয়ের অন্তরালে এক চিরন্তন প্রেমিকা ও অমলিন স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। উভয়ের কল্পনাই না-পাওয়ার বেদনা ও অবচেতন স্মৃতির বন্ধনে বাঁধা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নায়কের মতো অনুপমের বিরহের জন্যও মূলত তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বহীনতা ও মেরুদণ্ডহীন অক্ষমতাই দায়ী—উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকের নায়ক শুভলগ্নে বিবাহ আসর থেকে পালিয়ে গিয়ে কাপুরুষতা দেখিয়েছে। ফলে মেয়েটির সাথে তার মিলন ঘটেনি এবং আজীবন তাকে কল্পনার বিরহে ভুগতে হচ্ছে। নিজের পালিয়ে যাওয়ার দুর্বলতাই তার এই মানসিক যন্ত্রণার কারণ।
'অপরিচিতা' গল্পে দেখা যায়, অনুপম ছিল সুশিক্ষিত কিন্তু ব্যক্তিত্বহীন ও মামার আজ্ঞাবহ এক যুবক। বিয়ের আসরে মামা যখন তুচ্ছ স্বর্ণালংকার পরীক্ষা করার হীন কাজ করছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত শম্ভুনাথ বাবু অপমানিত হয়ে বিয়ে ভেঙে দিলেন, তখনও অনুপম কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। সে কেবল নির্বাক দর্শকের মতো মামার অন্যায্য কর্তৃত্ব মেনে নিয়েছিল। অনুপমের এই কাপুরুষতা, প্রতিবাদহীনতা এবং মেরুদণ্ডহীনতার কারণেই বিয়েটি ভেঙে যায়।
পরবর্তীতে কল্যাণীর সাথে পুনরায় যোগাযোগের সুযোগ ঘটলেও কল্যাণী দেশের কাজে আত্মনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় এবং অনুপমকে প্রত্যাখ্যান করে। অনুপম আজীবন যে বিরহ-যন্ত্রণায় কাতর রইল, তার জন্য অন্য কেউ নয়, বরং ঘটনার সময়ে তার নিজের ব্যক্তিত্বহীন অক্ষমতা ও সাহসের অভাবই প্রধানত দায়ী ছিল। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও