পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
'A' রাষ্ট্রে একটিমাত্র কেন্দ্র থেকে সমগ্র দেশ পরিচালিত হয়। অপরদিকে 'B' রাষ্ট্রে সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের মধ্যে দক্ষতাবিভাজন করে দেওয়া আছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপশি অঙ্গরাজ্যের সরকারসমূহ নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে ক্ষমতার চর্চা করে।
- ক)(1)
প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র কী?
- খ)(2)
ক্ষমতার ভারসাম্য (Balance of Power) নীতি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'A' রাষ্ট্রে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান? তার গুণসমূহ উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
'A' এবং 'B' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ সরাসরি শাসনকাজে অংশ না নিয়ে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা ও আইন প্রণয়ন করে, তাকে প্রতিনিধিত্বশীল বা পরোক্ষ গণতন্ত্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ক্ষমতার ভারসাম্য (Balance of Power) নীতি বলতে এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে কোনো একটি রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রজোট যাতে এককভাবে অপরাপর রাষ্ট্রের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে বা আগ্রাসী হতে না পারে, সেজন্য শক্তিসাম্য বজায় রাখা হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাষ্ট্র পারস্পরিক শক্তি ও মৈত্রীজোট গড়ে তুলে শান্তি ও স্থায়িত্ব রক্ষা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' রাষ্ট্রে একটিমাত্র কেন্দ্র থেকে সমগ্র দেশ পরিচালিত হওয়ায় সেখানে 'এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা' বিদ্যমান।
এককেন্দ্রিক সরকারের প্রধান গুণাবলি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. শক্তিশালী ও সুদৃঢ় প্রশাসন: একটি কেন্দ্র থেকে সমগ্র দেশ পরিচালিত হওয়ায় নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো সমন্বয়হীনতা থাকে না এবং প্রশাসন অত্যন্ত বলিষ্ঠ হয়।
২. জাতীয় সংহতি ও ঐক্য: একটিমাত্র সরকার, এক সংবিধান এবং একক প্রশাসনিক কাঠামো থাকার কারণে আঞ্চলিক বিভেদ দূর হয় এবং সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে।
৩. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের মুখাপেক্ষী হতে হয় না, ফলে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
৪. মিতব্যয়িতা: একাধিক প্রাদেশিক সরকার, প্রাদেশিক আইনসভা বা পৃথক আমলাতন্ত্রের প্রয়োজন না হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যয় তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়।
৫. আইনের অভিন্নতা: সমগ্র দেশে একই ধরনের আইন ও প্রশাসনিক নীতিমালা প্রচলিত থাকে, যা শাসন পরিচালনাকে সহজ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' রাষ্ট্রটি এককেন্দ্রিক সরকার এবং 'B' রাষ্ট্রটি যুক্তরাষ্ট্রীয় (Federal) সরকার ব্যবস্থার প্রতীক। নিচে এই দুই ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ক্ষমতা বণ্টন: 'A' রাষ্ট্রে বা এককেন্দ্রিক ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে; কোনো অঙ্গরাজ্যের অস্তিত্ব বা পৃথক ক্ষমতা থাকে না। পক্ষান্তরে, 'B' রাষ্ট্রে সংবিধানের মাধ্যমে স্পষ্ট নীতিতে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে দেওয়া হয়।
২. সংবিধানের প্রকৃতি: এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে সংবিধান লিখিত বা অলিখিত, নমনীয় বা অনমনীয় যেকোনোটি হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ('B' রাষ্ট্র) সংবিধান অবশ্যই লিখিত, অনমনীয় এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে কার্যকর থাকে।
৩. অঙ্গরাজ্যের স্বাধীনতা: 'A' রাষ্ট্রে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য অঞ্চল গঠিত হলেও তারা কেন্দ্রের অধীনে পরিচালিত হয়। কিন্তু 'B' রাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের নিজস্ব এখতিয়ারে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ক্ষমতা চর্চা করে।
৪. ভৌগোলিক ও জনসংখ্যার উপযোগিতা: এককেন্দ্রিক সরকার সাধারণত ছোট আয়তন ও সমজাতীয় জনগোষ্ঠীর জন্য উপযুক্ত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বিশাল আয়তনের বহুজাতি ও সংস্কৃতিবিশিষ্ট বৃহৎ রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন উভয়ই রক্ষা করতে অত্যন্ত কার্যকর।
৫. বিচার বিভাগের ভূমিকা: যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট বা বিচার বিভাগ অভিভাবক ও নিরপেক্ষ সালিশের ভূমিকা পালন করে, যা এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে তেমন দেখা যায় না।
পরিশেষে, সুশাসন ও কার্যকারিতার দিক থেকে উভয় ব্যবস্থারই নিজস্ব উপযোগিতা রয়েছে; দেশের পরিস্থিতি, ভূ-প্রকৃতি ও ঐক্যের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই দুই ব্যবস্থার সার্থকতা নির্ধারিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও