বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

6.1.

সারমর্ম লেখো:
দৈন্য যদি আসে আসুক, লজ্জা কিবা তাহে,
মাথা উঁচু রাখিস।
সুখের সাথী মুখের পানে যদি নাহি চাহে,
ধৈর্য ধরে থাকিস।
রুদ্র রূপে তীব্র দুঃখ যদি আসে নেমে
বুক ফুলিয়ে দাঁড়াস,
আকাশ যদি বজ্র নিয়ে মাথায় পড়ে ভেঙে
ঊর্ধ্বে দু'হাত বাড়াস।

6.2.

অথবা, ভাবসম্প্রসারণ করো:
মঙ্গল করিবার শক্তিই ধন, বিলাস ধন নহে।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

৬.১. সারমর্ম:

সারমর্ম: প্রতিকূল পরিবেশ ও চরম দারিদ্র্যে আত্মমর্যাদা এবং মনোবল বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। পার্থিব সুদিনের সঙ্গীরা দুঃসময়ে পাশে না থাকলেও ধৈর্য ধারণ করতে হবে। চরম দুর্যোগ ও দুঃখে ভেঙে না পড়ে বরং আত্মবিশ্বাস এবং অটল সাহস নিয়ে তা মোকাবিলা করাই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।


৬.২. ভাবসম্প্রসারণ:

"মঙ্গল করিবার শক্তিই ধন, বিলাস ধন নহে।"

মূলভাব: প্রাচুর্য বা আড়ম্বরপূর্ণ ভোগের মধ্যে সম্পদের যথার্থ সার্থকতা নিহিত নয়। সম্পদের প্রকৃত মূল্য তখনই প্রতিফলিত হয়, যখন তা আর্তমানবতার কল্যাণ ও সামাজিক মঙ্গলে ব্যবহৃত হয়।

সম্প্রসারিত ভাব: পার্থিব জগতে ধন-সম্পদ অর্জন করাকে অনেকেই জীবনের প্রধান সাফল্য বলে মনে করেন। সেই অর্থ তারা ব্যয় করেন ভোগবিলাস, অপচয় এবং আত্মপ্রচারে। কিন্তু আত্মকেন্দ্রিক সুখ ও ইন্দ্রিয়সুখের জন্য যে অর্থ ব্যয়িত হয়, তা ক্ষণস্থায়ী এবং মানবসমাজ বা আত্মার জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। ধনীর ধনভাণ্ডার যদি কেবল তার ব্যক্তিগত বিলাসিতায় নিঃশেষিত হয়, তবে তা মূল্যহীন পাথরের মতোই ভারী ও নিরর্থক।

প্রকৃতপক্ষে, সম্পদের শক্তি ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ক্ষুধার্তের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া, পীড়িতকে শুশ্রূষা করা, অজ্ঞকে শিক্ষার আলো দেওয়া এবং সমাজের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের অশ্রু মোচনের মাধ্যমেই অর্থ সম্পদে রূপান্তরিত হয়। মানুষের দুঃখ দূর করা এবং সৃষ্টির সেবা করার সুযোগ করে দেয় বলেই ধনের মহত্ত্ব। যারা সমাজকল্যাণে সম্পদ ব্যয় করেন, তারা সমাজে অমর হয়ে থাকেন। অপরদিকে, বিলাসী মানুষের অপব্যয় সমাজের মধ্যে বৈষম্য ও হিংসা সৃষ্টি করে।

মন্তব্য: অতএব, অর্থ কেবল ভোগ করার উপকরণ নয়; বরং তা মানবকল্যাণ ও পরোপকারের একটি মহৎ মাধ্যম। সম্পদকে মানবকল্যাণে বিনিয়োগ করাই মনুষ্যত্বের শ্রেষ্ঠ সাধনা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন