সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার সমস্যা ও সম্ভাবনা • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
আবিদ একজন মেধাবী ছাত্র। উচ্চ মাধ্যমিক সমাপ্তির পর সে এমন একটি বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চায়, যা তাকে মানবীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ভিত্তিক সেবা দানের সহায়তা করবে। কোনো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের অধীনের তার অর্জিত জ্ঞান বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে আধুনিক শিল্প সমাজের বহুমুখী জটিল সামাজিক সমস্যা সমাধানে আত্মনিয়োগ করায় তার লক্ষ্য।
- ক)(1)
Introduction to Social Work গ্রন্থের লেখক কে?
- খ)(2)
সমাজকর্মকে সক্ষমকারী প্রক্রিয়া বলা হয় কেন?
- গ)(3)
আবিদ যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চায় তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বিষয়টির আবশ্যকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Introduction to Social Work' গ্রন্থের লেখক হলেন রেক্স এ. স্কিডমোর এবং মিল্টন জি. থ্যাকারারি (Rex A. Skidmore & Milton G. Thackeray)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্ম মানুষকে শুধু প্রত্যক্ষ সাহায্য প্রদান করে না, বরং ব্যক্তির অন্তর্নিহিত শক্তি ও সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে তাকে নিজের সমস্যা নিজেই সমাধানে সক্ষম করে তোলে। অর্থাৎ সমাজকর্ম ব্যক্তিকে পরনির্ভরশীল না করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মতো সক্ষমতা সৃষ্টি করে বলেই একে একটি 'সক্ষমকারী প্রক্রিয়া' (Enabling process) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আবিদ যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চায়, তা হলো 'সমাজকর্ম' (Social Work)।
সমাজকর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভরতা: সমাজকর্ম কেবল সাধারণ সেবা নয়, এটি ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে বৈজ্ঞানিক ও সুসংবদ্ধ পদ্ধতি প্রয়োগ করে।
২. সাহায্যকারী ও সক্ষমকারী পেশা: এটি মানুষকে নিজের সম্পদ ও সামর্থ্য ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে।
৩. সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি: সমাজকর্ম মানুষের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সকল দিককে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করে সেবা দেয়।
৪. পেশাগত মূল্যবোধ ও দর্শন: এর নিজস্ব সুনির্দিষ্ট নৈতিক আচরণবিধি ও মানবিক মূল্যবোধ রয়েছে যা পেশাগত অনুশীলনে অনুসরণ করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে সমাজকর্মের আবশ্যকতা অপরিসীম। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যহীনতা, জনসংখ্যা সমস্যা এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে বহুমুখী জটিল সমস্যা বিদ্যমান।
এ প্রেক্ষিতে সমাজকর্মের ভূমিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বহুমুখী সামাজিক সমস্যার সমাধান: যৌতুক, বাল্যবিয়ে, মাদকাসক্তি প্রভৃতি জটিল সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের সুপরিকল্পিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কার্যকর।
২. সম্পদের সদ্ব্যবহার: অনুন্নত দেশে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনায় সমাজকর্ম অপরিহার্য।
৩. মানবসম্পদ উন্নয়ন: পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে সমাজকর্ম কার্যকর দিকনির্দেশনা দেয়।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ: সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবামূলক কার্যক্রম সমন্বয় ও সুশৃঙ্খল করতে সমাজকর্মের পেশাগত জ্ঞান অনস্বীকার্য।
অতএব, বাংলাদেশের সার্বিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সমাজকর্মের আবশ্যকতা অত্যন্ত ব্যাপক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও