ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
কলেজছাত্র রায়হান প্রতিদিন সকালে কেটি ঐশী গ্রন্থের কিছু অংশ অধ্যয়ন করে, যার প্রতিটি বর্ণের বিনিময়ে সে সাওয়াব প্রত্যাশা করে। তার পিতা জনাব আব্দুর রহীম সাহেব একদিন তাকে বললেন, “বাবা, এটি সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ ও সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস এবং এতে কোনো প্রকার ভুলত্রুটি ও সন্দেহ নেই।” তিনি আরও বললেন, “এই গ্রন্থটির প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো মানবজাতি।” তাই মানুষের উচিত হলো, তা বেশি বেশি অধ্যয়ন করে এর প্রকৃত শিক্ষা বাস্তব জীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা ।
- ক)(1)
‘কিতাব' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
‘আল-কুরআন'-কে ‘ফুরকান' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর ।
- গ)(3)
রায়হান প্রতিদিন কোন গ্রন্থ পাঠ করে? গ্রন্থটির মর্যাদা বিশ্লেষণ কর ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রন্থটির শিক্ষা সমাজজীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম? বিশ্লেষণ কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘কিতাব’ (كتاب) শব্দের অর্থ হলো বই, পুস্তক, গ্রন্থ বা লিখিত বস্তু।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘ফুরকান’ (الفرقان) শব্দের অর্থ সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী। পবিত্র আল-কুরআন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে, কোনটি ন্যায় এবং কোনটি অন্যায় তা দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্দেশ করে। সত্য ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী মানদণ্ড হিসেবে অবতীর্ণ হওয়ার কারণেই আল-কুরআনকে ‘ফুরকান’ বলা হয়। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, “পরম বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।” (সূরা আল-ফুরকান: ১)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোকে স্পষ্ট হয় যে, রায়হান প্রতিদিন পবিত্র ‘আল-কুরআন’ পাঠ করে।
আল-কুরআন মহান আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব, যা বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর মানবজাতির হিদায়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। এর প্রতিটি হরফ পাঠে দশটি করে নেকি বা সাওয়াব পাওয়া যায়। এ গ্রন্থে কোনো সন্দেহ বা ভুলের অবকাশ নেই। এটি সকল আসমানি কিতাবের সারসংক্ষেপ ও সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল উৎস। আল-কুরআনের সংরক্ষণ ও অপরিবর্তনীয়তার দায়িত্ব মহান আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন। মানবজাতির ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র পথপ্রদর্শক হওয়ায় এ গ্রন্থটি সৃষ্টির সেরা ও সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রন্থ অর্থাৎ আল-কুরআনের শিক্ষা সমাজজীবনে এক বৈপ্লবিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
আল-কুরআন কেবলমাত্র ব্যক্তিগত ইবাদতের গ্রন্থ নয়; এটি ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা নির্দেশ করে। কুরআন সমাজে ন্যায়বিচার, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেয়। সুদ, ঘুষ, জুলুম, অবিচার ও দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করে একটি ইনসাফভিত্তিক অর্থব্যবস্থা ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। এর অনুশাসন মানুষের মধ্যে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি জাগ্রত করে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস করে এবং পরোপকার, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। আইয়ামে জাহিলিয়াতের অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজ কুরআনের শিক্ষার আলোকেই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ শান্তিময় সমাজে রূপান্তরিত হয়েছিল। সুতরাং, বাস্তব জীবনে আল-কুরআনের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ ঘটলে বর্তমান সমাজেও সার্বিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও নৈতিক বিপ্লব সাধিত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও