‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামে জর্জ ওয়াশিংটনের সাংগঠনিক দক্ষতা, বাগ্মিতা, সমর কৌশল, দূরদৃষ্টি এবং জাতির প্রতি তাঁর ভালোবাসার কারণে তিনি চিরস্মরণীয়। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নিজ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর অবদান অপরিসীম। ফলে জাতি তার কাছে কৃতজ্ঞ।

  1. ক)

    সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কবে গঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তফ্রন্ট কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নেতার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার গুণাবলির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উক্ত নেতার বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা করে” –তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি গঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি নির্বাচনী ঐক্যজোট। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল—এই চারটি প্রধান দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতির অবসান ঘটিয়ে বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নেতা জর্জ ওয়াশিংটনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গুণাবলির সাদৃশ্য রয়েছে।\n\nউদ্দীপকে উল্লেখিত জর্জ ওয়াশিংটন তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা, বাগ্মিতা, দূরদৃষ্টি ও জাতির প্রতি ভালোবাসার কারণে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নিজ দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। একইভাবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সম্মোহনী বাগ্মিতা ও সুদৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।\n\nবঙ্গবন্ধুর সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে আওয়ামী লীগ সাধারণ জনগণের সংগঠনে পরিণত হয় এবং ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির মাধ্যমে তিনি বাঙালির মুক্তির সনদ উপস্থাপন করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তাঁর দিকনির্দেশনা ও বাগ্মিতার পরিচয় পাওয়া যায়, যা বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত নেতৃত্বের গুণাবলির সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গুণাবলির গভীর সাদৃশ্য সুস্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উক্ত নেতার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও সত্য।\n\nপাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালি জাতির ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক শোষণ চালাতে শুরু করে। এ শোষণের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আটান্নর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।\n\n১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধিকারের দলিল ‘ছয় দফা’ পেশ করেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাঁকে স্তব্ধ করতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করলেও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান এবং ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তানি শাসকচক্র ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করলে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তিনি ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেন— 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।'\n\n১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর নির্দেশ ও আদর্শকে বুকে ধারণ করে বীর বাঙালি নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে শত্রুমুক্ত করে।\n\nপরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী পরিকল্পনা, অদম্য সাহস এবং আপসহীন নেতৃত্বের ফলেই দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন