সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জয় বিদেশ থেকে নৃবিজ্ঞানের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে। দেশে ফিরেই দুটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর গবেষণা করা শুরু করে। যাদের উভয়ের মধ্যে দৈহিক বৈশিষ্ট্য, পারিবারিক জীবন, সম্পত্তি এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বেশ সাদৃশ্য থাকলেও ভাষা, ধর্ম ও ধর্মীয় বিশ্বাসে পার্থক্য রয়েছে। এদের একটি নৃগোষ্ঠীর ধর্মের নাম সাংসারেক, ভাষার নাম মান্দি এবং পরিবার ব্যবস্থা মাতৃপ্রধান। অপরপক্ষে অন্য নৃগোষ্ঠী হিন্দু ধর্মের বৈষ্ণবীয় মতবাদে বিশ্বাসী, ভাষার নাম মৈথেয়ী এবং তাদের শ্রেষ্ঠ নৃত্য, অনুষ্ঠানের ঠানের নাম লাইহারাউবা।
- ক)(1)
বৈসাবি কী?
- খ)(2)
এথনিক সম্প্রদায় বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপক দ্বারা কোন দুটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক দ্বারা ইঙ্গিতকৃত দুটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘বৈসাবি’ হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের একটি সমন্বিত রূপ (ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এথনিক সম্প্রদায় বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে এমন একটি মানবগোষ্ঠীকে বোঝায় যাদের একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান, অভিন্ন ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্য থাকে এবং যারা নিজেদের একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে বিবেচনা করে। এরা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী থেকে কিছুটা স্বতন্ত্র জীবনযাপন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক দ্বারা বাংলাদেশের দুটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—'গারো' এবং 'মণিপুরী'র প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের প্রথম নৃগোষ্ঠীর ধর্মের নাম সাংসারেক, ভাষার নাম মান্দি এবং তাদের পরিবার ব্যবস্থা মাতৃপ্রধান। বাংলাদেশের গারো নৃগোষ্ঠী নিজেদের ভাষায় 'মান্দি' (যার অর্থ মানুষ) বলে পরিচয় দেয়, তাদের ঐতিহ্যবাহী সনাতন ধর্মের নাম 'সাংসারেক' এবং তাদের সমাজে পরিবার মাতৃপ্রধান। অন্যদিকে, দ্বিতীয় নৃগোষ্ঠী বৈষ্ণবীয় মতবাদে বিশ্বাসী, তাদের ভাষার নাম 'মৈথেয়ী' এবং তাদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী নৃত্য হলো 'লাইহারাউবা', যা সিলেটের মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর অনন্য সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য। সুতরাং উদ্দীপকে গারো ও মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দুটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো গারো ও মণিপুরী। তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সামাজিক জীবনধারা: গারো সমাজ সম্পূর্ণ মাতৃপ্রধান। পরিবারের মা হলেন সর্বেসর্বা এবং পরিবারের কনিষ্ঠ কন্যা (নকনা) সাধারণত মায়ের সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হয়। বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বসবাস করে। পক্ষান্তরে, মণিপুরী সমাজ মূলত পিতৃতান্ত্রিক বা পিতৃপ্রধান। সেখানে পরিবারের প্রধান হন পিতা এবং পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন পুত্রসন্তানরা।
২. সাংস্কৃতিক জীবনধারা: গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো দকবান্দা ও দকসারি। তাদের সর্বপ্রধান উৎসব হলো নবান্ন উৎসব 'ওয়ানগালা'। অন্যদিকে, মণিপুরীদের রয়েছে সমৃদ্ধ নাট্য ও নৃত্যকলা। তাদের প্রধান উৎসব 'রাস উৎসব' এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্য 'লাইহারাউবা' ও 'রাসনৃত্য' বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। মণিপুরী নারীদের পোশাককে 'ইনাফি' ও 'ফানেক' বলা হয়। গারোরা পাহাড়ি খাদ্য ও নকমে (শুটকি) পছন্দ করে, অন্যদিকে মণিপুরীরা মূলত নিরামিষাশী এবং মাছ-ভাত পছন্দ করে।
সুতরাং উভয় নৃগোষ্ঠীর সামাজিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে স্বতন্ত্র স্বকীয়তা বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও