ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
নদী তীরবর্তী চাঁদপুর জেলা 'ইলিশের বাড়ি হিসেবে দেশ বিদেশে পরিচিত। প্রতি মৌসুমে জেলার প্রধান নদী মেঘনায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে । যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ধৃত ইলিশ সহজেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করা যায়। ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা বন্ধ করা গেলে এবং পরবর্তীতে জাটকা নিধন রোধ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। তখন বড় ইলিশ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব হবে।
- ক)(1)
ব্যবসায় পরিবেশ কী?
- খ)(2)
ব্যবসায় পরিবেশের বাহ্যিক উপাদানগুলো অনিয়ন্ত্রিত কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে চাঁদপুর ইলিশের বাড়ি' নামে খ্যাত হওয়ার পিছনে ব্যবসায়ের কোন পরিবেশের প্রভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ের কোন পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক পরিবেশগত উপাদান বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্য দিয়ে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠিত ও পরিচালিত হয়, তাদের সমষ্টিকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায় পরিবেশের বাহ্যিক উপাদানগুলো ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো বিষয় নয়, বরং এগুলো প্রতিষ্ঠানটির বাইরে সামগ্রিক পরিবেশে অবস্থান করে বলে এগুলো অনিয়ন্ত্রিত।
বাহ্যিক উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, আইনগত, প্রযুক্তিগত এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলো (যেমন: মূলধন, কর্মী, নিজস্ব নীতি ইত্যাদি) ব্যবস্থাপনা দ্বারা পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও বাহ্যিক উপাদানগুলো বৃহৎ পরিসরে সরকারের নীতি, প্রকৃতি ও সমাজের দ্বারা নির্ধারিত হয়। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে এই উপাদানগুলোকে মেনে নিয়ে বা খাপ খাইয়ে নিয়ে চলতে হয়, এগুলোকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চাঁদপুর 'ইলিশের বাড়ি' নামে খ্যাত হওয়ার পেছনে মূলত ব্যবসায় পরিবেশের 'প্রাকৃতিক পরিবেশের' প্রভাব রয়েছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে কোনো অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, নদ-নদী, জলবায়ু, প্রাকৃতিক সম্পদ ইত্যাদির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পরিবেশকে বোঝায়। কোনো অঞ্চলে বিশেষ কোনো সম্পদ বা পণ্যের প্রাচুর্য প্রাকৃতিকভাবেই নির্ধারিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চাঁদপুর জেলা নদী তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত এবং এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে প্রধান নদী মেঘনা। মেঘনা নদীর অনুকূল পানির স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে প্রতি মৌসুমে সেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে। এই নদ-নদী ও ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধার কারণে চাঁদপুর 'ইলিশের বাড়ি' হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে, যা সম্পূর্ণরূপে প্রাকৃতিক পরিবেশের দান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধিতে ব্যবসায় পরিবেশের 'রাজনৈতিক ও আইনগত পরিবেশের' কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা এবং পরবর্তীতে জাটকা নিধন রোধ করা প্রয়োজন। এই কাজগুলো কেবল জেলেদের সচেতনতার ওপর ছেড়ে দিলে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সরকারের সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন, কঠোর নজরদারি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
নিচে এ পরিবেশের অপরিহার্যতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ: জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধকরণের আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
২. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি: নদী ও জলসীমায় কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের নিয়মিত টহল পরিচালনা আইনি পরিবেশের অংশ।
৩. সরকারি পুনর্বাসন নীতি (রাজনৈতিক/অর্থনৈতিক পদক্ষেপ): মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালীন জেলেদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া আইন সফল হতে পারে না।অতএব, যথাযথ আইন প্রণয়ন, প্রয়োগ এবং সরকারি নীতিগত সহায়তা—অর্থাৎ একটি সুদৃঢ় আইনগত ও রাজনৈতিক পরিবেশই মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষা করে দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও