পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
দ্বিজাতি তত্ত্বের ধারণাটি উপস্থাপন করেন কে?
- খ)(2)
খিলাফত আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
চিত্রে ব্রিটিশ ভারতের যে আইনের ধারা প্রকাশ পেয়েছে তার বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
চিত্রে প্রকাশিত আইনের ধারাটির কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিজাতি তত্ত্বের ধারণাটি উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (১৯৪০ সালে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের উসমানীয় সাম্রাজ্যের পরাজয়ের পর তুরস্কের খলিফার পদমর্যাদা, অখণ্ডতা এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানরা যে গণআন্দোলন গড়ে তোলে, তাকে খিলাফত আন্দোলন বলে। ১৯১৯ সালে মাওলানা শওকত আলী ও মাওলানা মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে এই আন্দোলন শুরু হয়, যা ব্রিটিশ সরকারের সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রে ব্রিটিশ ভারতের ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের ধারা বা প্রাদেশিক দ্বৈতশাসনের ব্যবস্থা প্রকাশ পেয়েছে।
এই আইনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. প্রাদেশিক দ্বৈতশাসন: প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়—'সংরক্ষিত' (Reserved) এবং 'হস্তান্তরিত' (Transferred)।
২. সংরক্ষিত বিষয়সমূহ: অর্থ, পুলিশ, বিচার, কারাগার প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংরক্ষিত ছিল, যা গভর্নর তাঁর মনোনীত নির্বাহী পরিষদের সহায়তায় পরিচালনা করতেন এবং আইনসভার কাছে তিনি দায়ী ছিলেন না।
৩. হস্তান্তরিত বিষয়সমূহ: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, স্থানীয় সরকার প্রভৃতি অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্বাচিত মন্ত্রীদের হাতে ন্যস্ত ছিল, যাঁরা আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য ছিলেন।
৪. কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন: আইনটিতে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়।
৫. কেন্দ্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: কেন্দ্রীয় আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (উচ্চ পরিষদ ও ব্যবস্থাপক সভা) করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রে প্রকাশিত আইনের ধারাটি হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে প্রদেশসমূহে প্রবর্তিত 'দ্বৈতশাসন' ব্যবস্থা। এই ধারাটির কার্যকারিতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এটি বাস্তব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছিল।
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার অকার্যকারিতা ও দুর্বলতাসমূহ নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অবাস্তব ও ত্রুটিপূর্ণ বিভাজন: শাসনক্ষমতাকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত—এই দুই অবাস্তব অংশে ভাগ করায় সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। যেমন—কৃষি ছিল হস্তান্তরিত বিভাগের অধীনে, অথচ সেচ ও ভূমি রাজস্ব ছিল সংরক্ষিত বিভাগের অধীনে।
২. মন্ত্রীদের ক্ষমতাহীনতা ও আর্থিক সংকট: ভারতীয় নির্বাচিত মন্ত্রীদের হাতে যেসব উন্নয়নমূলক বিভাগ ন্যস্ত ছিল, সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ছিল সংরক্ষিত বিভাগের (গভর্নর ও তাঁর পরিষদের অর্থ বিভাগ) নিয়ন্ত্রণে। অর্থের অভাবে মন্ত্রীরা জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
৩. আমলাদের অসহযোগিতা: সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত উভয় বিভাগের সরকারি আমলা ও সচিবরা ছিলেন ব্রিটিশ আইসিএস ক্যাডারের। তাঁরা ভারতীয় মন্ত্রীদের আদেশ অমান্য করতেন এবং সরাসরি গভর্নরের প্রতি অনুগত থাকতেন।
৪. গভর্নরের একচ্ছত্র ক্ষমতা: হস্তান্তরিত বিষয়ের ওপরও গভর্নরের ভেটো ক্ষমতা ছিল। মন্ত্রীরা আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকলেও তাঁদের প্রকৃত কোনো কর্তৃত্ব ছিল না।সুতরাং, ক্ষমতার এই অস্বাভাবিক বিভাজনের কারণে ১৯১৯ সালের প্রাদেশিক দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা সফলতার মুখ দেখেনি এবং সামগ্রিকভাবে চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও