গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ • শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ফাহাদ পত্রিকায় খাদ্যের বিভিন্ন বিষক্রিয়া ও ভেজাল সম্পর্কে জানতে পারলেন। তাই তিনি তার একমাত্র মেয়ে মিলিকে খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বললেন এবং খাদ্যের ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য সম্পর্কে সচেতন হতে বললেন।
- ক)(1)
খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ কাকে বলে?
- খ)(2)
ভিবরিও কলেরা রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে খাদ্যের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে পাঠ্য বইয়ের আলোকে আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
খাদ্যের ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য সম্পর্কে সচেতনতা প্রয়োজন, তা তোমার মতামতে আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবাণুযুক্ত বা দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে মানবদেহে যেসকল রোগ সংক্রমিত হয়, সেগুলোকে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ বলে। যেমন— কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া ইত্যাদি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভিবরিও কলেরা (Vibrio cholerae) ব্যাকটেরিয়াজনিত কলেরা রোগের প্রধান লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় নিচে দেওয়া হলো:
লক্ষণ:
১. পাতলা চাল-ধোয়া পানির মতো ঘন ঘন মলত্যাগ।
২. বমি হওয়া এবং শরীর থেকে দ্রুত পানি ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দেওয়া।
৩. মাংসপেশিতে টান ধরা বা খিঁচুনি এবং চোখ ভেতরের দিকে বসে যাওয়া।প্রতিরোধের উপায়:
১. নিরাপদ ও ফোটানো পানি পান করা এবং খাদ্য ঢেকে রাখা।
২. বাসি, পচা ও খোলা জায়গার খাবার পরিহার করা এবং খাওয়ার পূর্বে ও মলত্যাগের পরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ফাহাদ তার মেয়েকে খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। পাঠ্যবইয়ের আলোকে খাদ্যে বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো অত্যন্ত মারাত্মক।
১. ফলমূল পাকাতে ও সতেজ রাখতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথোফেন ও ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। এগুলো মানবদেহে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।
২. ফরমালিন ও অন্যান্য রাসায়নিকের কারণে যকৃৎ (লিভার) ও বৃক্ক (কিডনি) বিকল হতে পারে।
৩. মিষ্টি, জুস বা খাবারে কাপড়ের রঙ বা অননুমোদিত রঙ মেশালে পরিপাকতন্ত্রে প্রদাহ এবং পরবর্তীতে পাকস্থলী ও অন্ত্রের ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে।
৪. রাসায়নিকযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে।সুতরাং, খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত খাদ্যের ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য সম্পর্কে সার্বিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। নিম্নে আমার মতামত আলোচনা করা হলো:
১. জীবন ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা: খাদ্যে ফরমালিন, কার্বাইড, কৃত্রিম রঙ ও বিষাক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের কারণে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনি ফেইলিউর ও হৃদরোগের মতো জটিল ব্যাধি দিন দিন বাড়ছে। নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে খাদ্যে ভেজাল সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
২. ভোক্তা হিসেবে সতর্কতা: সচেতন ভোক্তা হিসেবে খাদ্য ক্রয়ের পূর্বে মান যাচাই করা (যেমন— BSTI সনদ দেখা), অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিক রঙের খাবার বর্জন করা এবং ফলমূল বা শাকসবজি খাওয়ার আগে লবণ-পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার মতো সাধারণ অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
৩. সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা: পরিবার ও সমাজের সবাইকে ভেজাল খাদ্যের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে, যাতে ভেজালযুক্ত খাদ্যের চাহিদা কমে যায়।
৪. আইন প্রয়োগে সহযোগিতা: ব্যবসায়ীদের অসদুপায় ও ভেজাল প্রতিরোধে নিরাপদ খাদ্য আইন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগে সাধারণ জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য।পরিশেষে বলা যায়, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য খাদ্যে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক সম্পর্কে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সমন্বিত সচেতনতা গড়ে তোলা একান্ত অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও