সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
তুষার একজন সফল কৃষক। তিনি উন্নত জাতের বীজ, সার। ও কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করেছেন। এর ফলে তার আর্থিক সচ্ছলতা আসে। তার ছেলে-মেয়েরা সবাই উচ্চশিক্ষিত। বর্তমানে তারা ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়াও। তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে সকলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে।
- ক)(1)
লেডিরেট বিবাহ কী?
- খ)(2)
কাব্য ও কাব্যগ্রন্থের সংস্কৃতিগত পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে গ্রামীণ জীবনযাত্রা পরিবর্তনে কোন উপাদানটির ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সামাজিক পরিবর্তনে উক্ত উপাদানটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো বিধবা নারী যদি তার মৃত স্বামীর কোনো ভাইকে (দেবর বা ভাসুর) বিবাহ করে, তবে সেই বিবাহকে লেভিরেট বিবাহ (Levirate marriage) বা দেবর বিবাহ বলে। (প্রশ্নে উল্লেখিত 'লেডিরেট' মূলত লেভিরেট বিবাহের বিকৃত বানান)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাব্য ও কাব্যগ্রন্থের মধ্যে সংস্কৃতিগত মূল পার্থক্য হলো—কাব্য হলো অভৌতিক বা অবস্তুগত সংস্কৃতি, আর কাব্যগ্রন্থ হলো বস্তুগত সংস্কৃতি।
সংস্কৃতির যে উপাদান মানুষ ইন্দ্রিয় দিয়ে সরাসরি স্পর্শ করতে পারে না কিন্তু অন্তরে উপলব্ধি করে, তা অবস্তুগত সংস্কৃতি; কবিমনের ভাব, ছন্দ ও কল্পনার সমষ্টি 'কাব্য' তেমনই একটি অবস্তুগত সংস্কৃতি। পক্ষান্তরে, যে উপাদানগুলো স্পর্শযোগ্য ও দৃশ্যমান তা বস্তুগত সংস্কৃতি; কাগজ ও কালি দিয়ে মুদ্রিত ও বাঁধাইকৃত 'কাব্যগ্রন্থ' বা বই হলো মানুষের তৈরি সেই বাস্তব বস্তুগত রূপ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে গ্রামীণ জীবনযাত্রা পরিবর্তনে সামাজিক পরিবর্তনের 'প্রযুক্তিগত উপাদান' (Technological factor)-এর ইঙ্গিত করা হয়েছে।
প্রযুক্তি হলো বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতার প্রায়োগিক রূপ, যার উদ্ভাবন ও প্রয়োগ মানুষের জীবনপ্রণালি ও উৎপাদন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটায়। কৃষিকাজে উন্নত উপকরণ এবং যোগাযোগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এর প্রধান উদাহরণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক তুষার উন্নত জাতের বীজ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়েছেন। পাশাপাশি তার সন্তানেরা ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বসংস্কৃতি ও শিক্ষাব্যবস্থার সাথে যুক্ত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ স্থাপন করেছে। কৃষিপ্রযুক্তি এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির এহেন মেলবন্ধন গ্রামীণ জীবনের চিরায়ত ব্যবস্থাকে আধুনিকতায় রূপান্তর করছে। অতএব, এটি স্পষ্টতই সামাজিক রূপান্তরের প্রযুক্তিগত উপাদানকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক পরিবর্তনে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রযুক্তিগত উপাদানের প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অর্থনৈতিক কাঠামোর আধুনিকায়ন: আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির (উন্নত বীজ, সার, সেচ ব্যবস্থা) ব্যবহার সনাতন কৃষিকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছে। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সচ্ছলতা আসছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।
২. শিক্ষায় বিপ্লব ও সচেতনতা বৃদ্ধি: তথ্যপ্রযুক্তির (মোবাইল ও ইন্টারনেট) কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও উচ্চশিক্ষা ও বৈশ্বিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। ফলে কুসংস্কার দূরীভূত হয়ে বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক চেতনার বিকাশ ঘটছে।
৩. সামাজিক যোগাযোগ ও বিশ্বায়ন: ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের মাধ্যমে ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বব্যাপী পারস্পরিক যোগাযোগ সহজ হয়েছে, যা গ্রামীণ মানুষকে 'গ্লোবাল ভিলেজ' বা বিশ্বগ্রামের সাথে যুক্ত করেছে।
৪. পরিবার ও মূল্যবোধের পরিবর্তন: প্রযুক্তির কল্যাণে উচ্চশিক্ষার প্রসার ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে এবং সমাজে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৫. নারীর ক্ষমতায়ন ও নতুন পেশার সৃষ্টি: তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং, ই-কমার্স ইত্যাদি বহুমুখী কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে গ্রামীণ তরুণ ও নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলছে।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, প্রযুক্তিগত উপাদান উৎপাদন, যোগাযোগ, শিক্ষা ও মননশীলতায় বহুমুখী পরিবর্তন এনে মানবসমাজকে নিরন্তর আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও