রসায়ন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২২
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন
C4H8 যৌগের দুটি সমানু A(প্রতিসম),B (অপ্রতিসম) । B যৌগটি HBr এর সাথে C উৎপন্ন করে।
- ক)(1)
লবণ সেতু কী?
- খ)(2)
SO3SO_3 যৌগটি ইলেকট্রনাকর্ষী বিকারক কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে B যৌগ হতে C যৌগ প্রস্তুতির কৌশল আলোচনা কর ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে A ও C যৌগ দুটি ভিন্ন ধরনের সমানুতা প্রদর্শন করে বিশ্লেষন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে দুটি অর্ধকোষের দ্রবণদ্বয়ের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগ না ঘটিয়ে আয়ন পরিবহনের মাধ্যমে পরোক্ষ সংযোগ স্থাপন ও তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত U-আকৃতির কাচনলকে লবণ সেতু বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
SO₃ অণুতে সালফার পরমাণুর সাথে তিনটি অক্সিজেন পরমাণু দ্বিবন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে। অক্সিজেনের তড়িৎ ঋণাত্মকতা সালফারের চেয়ে বেশি হওয়ায় S=O বন্ধনের শেয়ারকৃত ইলেকট্রন যুগল অক্সিজেনের দিকে আকৃষ্ট হয়। ফলে সালফার পরমাণুতে তীব্র আংশিক ধনাত্মক চার্জের (δ+) সৃষ্টি হয়। এই আংশিক ধনাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন ঘাটতি সালফার কেন্দ্র সহজেই ইলেকট্রনসমৃদ্ধ কেন্দ্রকে আকর্ষণ করে। তাই SO₃ একটি ইলেকট্রনাকর্ষী বিকারক (ইলেক্ট্রোফাইল) হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে C₄H₈ হলো একটি অ্যালকিন।
যেহেতু B একটি অপ্রতিসম অ্যালকিন, সুতরাং B হলো বিউটিন-১ (CH₃-CH₂-CH=CH₂)।
বিউটিন-১ এর সাথে HBr এর সংযোজন ইলেকট্রোফিলিক সংযোজন কৌশলে মারকভনিকভের নীতি অনুযায়ী ঘটে এবং প্রধান উৎপাদ হিসেবে ২-ব্রোমোবিউটেন (C) উৎপন্ন হয়:বিক্রিয়া কৌশল:
ধাপ ১: ইলেক্ট্রোফাইল (H⁺) সৃষ্টি ও কার্বোক্যাটায়ন গঠন:
HBr বিয়োজিত হয়ে H⁺ ও Br⁻ তৈরি করে। পাই-ইলেকট্রন দ্বারা H⁺ আক্রান্ত হয়ে দুটি সম্ভাব্য কার্বোক্যাটায়ন গঠন করতে পারে:
CH₃-CH₂-CH=CH₂ + H⁺ → CH₃-CH₂-CH⁺-CH₃ (২° কার্বোক্যাটায়ন, অধিক সুস্থিত) অথবা CH₃-CH₂-CH₂-CH₂⁺ (১° কার্বোক্যাটায়ন, কম সুস্থিত)।ধাপ ২: নিউক্লিওফাইলের আক্রমণ:
অধিক সুস্থিত ২° কার্বোক্যাটায়নে নিউক্লিওফাইল ব্রোমাইড আয়ন (Br⁻) দ্রুত যুক্ত হয়ে ২-ব্রোমোবিউটেন (C) গঠন করে:
CH₃-CH₂-CH⁺-CH₃ + Br⁻ → CH₃-CH₂-CH(Br)-CH₃ (২-ব্রোমোবিউটেন)।
এভাবে B যৌগ থেকে ইলেকট্রনাকর্ষী সংযোজন বিক্রিয়ায় C যৌগ প্রস্তুত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত C₄H₈ এর প্রতিসম সমানু A হলো বিউটিন-২ (CH₃-CH=CH-CH₃) এবং B থেকে উৎপন্ন যৌগ C হলো ২-ব্রোমোবিউটেন [CH₃-CH₂-CH(Br)-CH₃]।
A যৌগটি জ্যামিতিক সমানুতা প্রদর্শন করে:
বিউটিন-২ যৌগে কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধনের মুক্ত আবর্তন সম্ভব নয় এবং দ্বিবন্ধনযুক্ত প্রতিটি কার্বনে দুটি ভিন্ন পরমাণু/মূলক (-H এবং -CH₃) যুক্ত রয়েছে। ফলে এটি দুটি জ্যামিতিক সমানু প্রদর্শন করে:
১. সিস-বিউটিন-২ (উভয় -CH₃ মূলক দ্বিবন্ধনের একই পাশে থাকে)।
২. ট্রান্স-বিউটিন-২ (উভয় -CH₃ মূলক দ্বিবন্ধনের বিপরীত পাশে থাকে)।অপরদিকে, C যৌগটি আলোক সমানুতা প্রদর্শন করে:
২-ব্রোমোবিউটেন [CH₃-C*H(Br)-CH₂-CH₃] যৌগের ২ নং কার্বন পরমাণুর সাথে চারটি ভিন্ন পরমাণু বা মূলক (-H, -CH₃, -Br, -C₂H₅) যুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ ২ নং কার্বনটি একটি কাইরাল বা অপ্রতিসম কার্বন কেন্দ্র। এর কোনো প্রতিসাম্য তল নেই এবং এর দর্পণ প্রতিবিম্ব পরস্পরের ওপর অপূরণীয় বা উপরিপাতনযোগ্য নয়। ফলে যৌগটি আলোক সক্রিয় এবং ডি (d) ও এল (l) রূপ প্রদর্শন করে।অতএব, দেখা যায় যে A যৌগটি ত্রিমাত্রিক সমানুতার অন্তর্গত জ্যামিতিক সমানুতা (সিস-ট্রান্স) প্রদর্শন করে এবং C যৌগটি আলোক সমানুতা প্রদর্শন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও