গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

খাদ্য তালিকা ১ | গাজর, মিষ্টিকুমড়া, মলা মাছ
খাদ্য তালিকা ২ | পায়েস, বিস্কুট, আলু ভর্তা
খাদ্য তালিকা ৩ | রোস্ট, কাবাব, কোরমা

  1. ক)

    পুষ্টি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দ্রাব্যতার সাথে ভিটামিনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    খাদ্য তালিকা ১ এ নির্দেশিত প্রধান পুষ্টি উপাদান এর কাজ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    খাদ্য তালিকা ২ ও ৩ এ নির্দেশিত খাদ্যের প্রধান পুষ্টি উপাদান চিহ্নিত করে এদের অভাবজনিত অবস্থার ভিন্নতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পুষ্টি হলো একটি গতিশীল প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে গৃহীত খাদ্য পরিপাক, শোষণ ও আত্মীকরণের দ্বারা দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি সাধন, তাপ-শক্তি উৎপাদন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভিটামিনের দ্রবণীয়তা বা বিভিন্ন মাধ্যমে গুলে যাওয়ার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এদের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়, যা ভিটামিনের শোষণ, সংরক্ষণ ও কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে। দ্রাব্যতার ওপর ভিত্তি করে ভিটামিনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
    ১. চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (Fat-soluble vitamins): ভিটামিন A, D, E এবং K। এরা স্নেহপদার্থে দ্রবীভূত হয় এবং যকৃৎ ও চর্বিকলায় জমা থাকতে পারে।
    ২. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (Water-soluble vitamins): ভিটামিন B-কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন C। এরা পানিতে গুলে যায়, দেহে দীর্ঘমেয়াদে জমা থাকে না এবং অতিরিক্ত অংশ মূত্রের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাদ্য তালিকা ১-এ উল্লিখিত খাদ্যগুলো হলো গাজর, মিষ্টিকুমড়া ও মলা মাছ। এগুলোর প্রধান পুষ্টি উপাদান হলো 'ভিটামিন এ' (ক্যারোটিনয়েড ও রেটিনল)।

    দেহে ভিটামিন এ-এর প্রধান কাজগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:
    ১. দৃষ্টিশক্তি রক্ষা: ভিটামিন এ চোখের রেটিনার রডোপসিন রঞ্জক তৈরিতে সাহায্য করে, যা স্বল্প আলোতে দেখতে সহায়তা করে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
    ২. ত্বক ও উপরিভাগের টিস্যুর সুস্থতা: এটি দেহের এপিথেলিয়াল বা আবরণী কলাকে আর্দ্র ও সুস্থ রাখে, ফলে ত্বক কোমল থাকে এবং শুষ্কতা ও কেরাটিনাইজেশন থেকে রক্ষা পায়।
    ৩. দেহের বৃদ্ধি ও গঠন: শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি এবং হাড় ও দাঁতের সঠিক গঠনে ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
    ৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এটি শরীরের শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়িয়ে সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের খাদ্য তালিকা ২-এর খাদ্যগুলো (পায়েস, বিস্কুট, আলু ভর্তা) মূলত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রধান খাদ্য। অন্যদিকে খাদ্য তালিকা ৩-এর খাদ্যগুলো (রোস্ট, কাবাব, কোরমা) প্রধানত প্রোটিন বা আমিষ (এবং স্নেহপদার্থ) সমৃদ্ধ খাদ্য।

    এই দুটি প্রধান পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত শারীরিক অবস্থার মধ্যে সুস্পষ্ট ভিন্নতা বিদ্যমান:

    ১. শর্করার (খাদ্য তালিকা ২) অভাবজনিত অবস্থা:

    • শক্তির ঘাটতি ও ক্লান্তি: শর্করা দেহের প্রধান জ্বালানি। শর্করার অভাবে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়, ফলে দ্রুত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও অবসাদ সৃষ্টি হয়।
    • কিটোসিস (Ketosis): রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে শরীর চর্বি ভেঙে শক্তি তৈরি করতে বাধ্য হয়, যার ফলে রক্তে ক্ষতিকর কিটোন বডি বেড়ে কিটোসিস নামক অম্লীয় জটিলতা দেখা দেয়।
    • প্রোটিনের অপচয়: খাদ্যে শর্করার অভাব হলে দেহের পেশির প্রোটিন ভেঙে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, ফলে শরীর শীর্ণ হতে থাকে।

    ২. আমিষের (খাদ্য তালিকা ৩) অভাবজনিত অবস্থা:

    • কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor): শিশুদের খাদ্যতালিকায় আমিষের তীব্র অভাব হলে কোয়াশিওরকর রোগ দেখা দেয়। এতে শরীরে পানি জমে হাত-পা ফুলে যায় (ইডেমা), পেট বড় হয়, ত্বক খসখসে হয় এবং চুলের রং তামাটে হয়ে যায়।
    • ম্যারাসমাস (Marasmus): আমিষ ও শক্তি উভয়ের তীব্র অভাবে শিশু কঙ্কালসার হয়ে পড়ে, মাংসপেশি মারাত্মকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং বৃদ্ধি পুরোপুরি থমকে যায়।
    • বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার হ্রাস: আমিষের অভাবে কোষের পুনর্গঠন ও ক্ষয়পূরণ বন্ধ হয়, এনজাইম ও অ্যান্টিবডি তৈরি ব্যাহত হয়ে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়।

    অতএব, দেখা যায় যে শর্করার অভাব মূলত দেহে তাৎক্ষণিক শক্তি ও বিপাকীয় ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটায়, যেখানে আমিষের অভাব শারীরিক গঠন, পেশির বিকাশ এবং তীব্র অপপুষ্টিজনিত জটিল রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন