গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

মাহিরা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করে। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় পরিবারের সবাই তার অনেক যত্ন নেয়। নির্দিষ্ট সময় পরে সে কন্যা সন্তানের মা হয়। কন্যার জন্মের পর তার ওজন নেওয়া হয়। কন্যার ওজন হয় ৩ কেজি। পরিবারের সবাই নবজাতকের নাম রাখে মিশু।

  1. ক)

    ঝুঁকিপূর্ণ মা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মায়ের মানসিক অবস্থা গর্ভস্থ শিশুকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নির্দেশিত শিশুর বৈশিষ্ট্যটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মাহিরা ও মিশুর পরিচর্যার ভিন্নতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব গর্ভবতী মায়ের শারীরিক অবস্থা, বয়স বা কোনো রোগব্যাধির কারণে গর্ভাবস্থায় কিংবা প্রসবকালে মা ও গর্ভস্থ শিশুর নানাবিধ জটিলতা বা মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে, তাদের ঝুঁকিপূর্ণ মা বলা হয়। (যেমন: ১৮ বছরের নিচে বা ৩৫ বছরের বেশি বয়সী মা, রক্তস্বল্পতা বা উচ্চ রক্তচাপ থাকা মা ইত্যাদি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গর্ভকালীন সময়ে মায়ের মানসিক অবস্থা গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

    মা যদি দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ, মানসিক চাপ, ভয় বা অবসাদে ভোগেন, তবে তাঁর শরীর থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় কর্টিসল ও অন্যান্য স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। এসব হরমোন প্লাসেন্টা বা অমরার মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশুর দেহে প্রবেশ করে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে। এর ফলে অকাল প্রসব, শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া এবং ভবিষ্যতে শিশুর খিটখিটে মেজাজ, অতিরিক্ত কান্না বা আচরণগত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। পক্ষান্তরে, মা আনন্দময় ও মানসিক শান্তিতে থাকলে শিশুর স্বাস্থ্যকর বিকাশ ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত শিশু মিশুর বৈশিষ্ট্যটি হলো সে একজন ‘স্বাভাবিক বা আদর্শ ওজনের নবজাতক’।

    সাধারণত একটি সুস্থ ও পূর্ণ গর্ভকালীন সময় পার করে জন্ম নেওয়া নবজাতকের আদর্শ ওজন ২.৫ কেজি থেকে ৩.৫ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মাহিরার কন্যা মিশুর জন্মের পর ওজন নেওয়া হলে তার ওজন হয় ৩ কেজি। এই ওজন সুস্থ ও স্বাভাবিক নবজাতকের ওজনের মানদণ্ডের মধ্যে পড়ে।

    স্বাভাবিক ওজনের নবজাতকের অন্যান্য সাধারণ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে—
    ১. জন্মের পরপরই শিশু কেঁদে ওঠে এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়।
    ২. শরীরের ত্বক নরম, মসৃণ ও গোলাপি আভাযুক্ত হয়।
    ৩. চুষে খাওয়ার প্রতিবর্তী ক্রিয়া (sucking reflex) স্বাভাবিক থাকে, ফলে মায়ের শালদুধ সহজেই টেনে খেতে পারে।
    ৪. তার শরীরের তাপমাত্রা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।
    সুতরাং, ৩ কেজি ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়ায় মিশু একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক নবজাতক হিসেবে চিহ্নিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মাহিরা হলেন প্রসূতি মা এবং মিশু হলো নবজাতক শিশু। উভয়েরই বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হলেও তাদের শারীরিক অবস্থা ও চাহিদার পার্থক্যের কারণে পরিচর্যার ধরনে সুস্পষ্ট ভিন্নতা রয়েছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. মাহিরার (প্রসূতি মা) পরিচর্যা:

    • পুষ্টিকর খাদ্য: প্রসবের পর মাহিরার শরীর পুনর্গঠন ও বুকের দুধ উৎপাদনের জন্য প্রচুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও তরলযুক্ত সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।
    • বিশ্রাম ও স্বাস্থ্যবিধি: প্রসব-পরবর্তী সময়ে সংক্রমণ এড়াতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক প্রফুল্লতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
    • স্বাস্থ্য পরীক্ষা: রক্তক্ষরণ, সেলাইয়ের স্থান (যদি থাকে) পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভিটামিন বা ওষুধ সেবন জরুরি।

    ২. মিশুর (নবজাতক শিশু) পরিচর্যা:

    • শালদুধ ও স্তন্যপান: জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মিশুকে মায়ের শালদুধ খাওয়াতে হবে এবং ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধই (এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং) তার একমাত্র খাবার ও পানীয়।
    • উষ্ণতা রক্ষা: নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে, তাই তাকে উষ্ণ রাখা (ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার বা সুতি কাপড়ে জড়িয়ে রাখা) অত্যন্ত জরুরি।
    • নাভির যত্ন ও পরিচ্ছন্নতা: নাভি শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে কোনো জীবাণু সংক্রমণ না ঘটে। গোসল ও ত্বকের যত্নে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
    • টিকাদান: নির্দিষ্ট সময়ে নবজাতকের জন্য প্রযোজ্য প্রাথমিক টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।

    পরিশেষে বলা যায়, মাহিরা একজন পূর্ণবয়স্ক প্রসূতি হিসেবে তাঁর পরিচর্যার মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পাওয়া এবং স্তন্যদানের উপযোগী হওয়া। অপরদিকে, নবজাতক মিশু অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তার পরিচর্যার মূল লক্ষ্য হলো বাহ্যিক পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো, সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা এবং সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি বজায় রাখা। তাই উভয়ের পরিচর্যার ক্ষেত্রে ভিন্নতা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন