ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • আব্বাসীয় খিলাফত (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
চেঙ্গিস খান একজন রক্তপিপাসু নিষ্ঠুর-প্রকৃতির শাসনকর্তা ছিলেন। এ জন্য তার উপাধি ছিল 'জগতের ত্রাস' বা 'বিশ্বত্রাস'। তিনি মোজঙ্গল জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন। তিনি ছিলেন ওয়াদা ভঙ্গকারী শাসক। তিনি বিজিত রাজ্যের উপর নিপীড়ন-নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতেন। অন্যদিকে, মধ্য এশিয়ার আরেকজন শাসক শাহরুখ জ্ঞান-বিজ্ঞান বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার জন্য একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- ক)(1)
আব্বাসিয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতার নাম লেখো।
- খ)(2)
আব্বাসিয় আন্দোলনের প্রধান উদ্যোক্তার পরিচয় দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের চরিত্রের সাথে কোন আব্বাসিয় খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
খলিফা আল-মামুনের কর্মকান্ড শাহরুখের কর্মকাণ্ডেরই প্রতিফল- যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেন খলিফা আবু জাফর আল-মনসুর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আব্বাসীয় আন্দোলনের প্রধান উদ্যোক্তা ও রূপকার ছিলেন আবু মুসলিম খোরাসানি। তিনি ছিলেন খোরাসানের একজন অত্যন্ত দক্ষ সেনাপতি ও সংগঠক। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টা, অসাধারণ রণকৌশল এবং খোরাসানিদের সফলভাবে ঐক্যবদ্ধ করার ফলেই উমাইয়াদের পতন ত্বরান্বিত হয় এবং আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের নিষ্ঠুরতা ও রক্তপিপাসু চরিত্রের সাথে প্রথম আব্বাসীয় খলিফা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চেঙ্গিস খান ছিলেন একজন রক্তপিপাসু ও চরম নিষ্ঠুর প্রকৃতির শাসক, যিনি বিরোধীদের ওপর অমানুষিক নিপীড়ন-নির্যাতন এবং হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন।
একইভাবে, উমাইয়া খিলাফতের পতনের পর আব্বাসীয় বংশের প্রথম খলিফা আবুল আব্বাস উমাইয়াদের ওপর চরম প্রতিশোধমূলক নৃশংসতা চালান। তিনি অসংখ্য উমাইয়া রাজপুত্র ও সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এমনকি পূর্বে মারা যাওয়া উমাইয়া খলিফাদের কবর পর্যন্ত খুঁড়ে কঙ্কাল তুলে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তাঁর এই ব্যাপক রক্তপাত ও প্রতিশোধপরায়ণতার কারণে তাঁকে 'আস-সাফফাহ' বা 'রক্তপিপাসু/রক্তস্রাবী' উপাধি দেওয়া হয়। ফলে চেঙ্গিস খানের চারিত্রিক নিষ্ঠুরতার সাথে খলিফা আস-সাফফাহর কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য ফুটে ওঠে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খলিফা আল-মামুনের কর্মকাণ্ড মধ্য এশিয়ার শাসক শাহরুখের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও একাডেমি প্রতিষ্ঠার কর্মকাণ্ডেরই প্রতিফলন—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মধ্য এশিয়ার শাসক শাহরুখ জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আব্বাসীয় খিলাফতের স্বর্ণযুগের মহান খলিফা আল-মামুনও একই ধরনের অসামান্য সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক অবদান রেখেছিলেন।
খলিফা আল-মামুনের শাসনকাল ছিল মুসলিম সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনের স্বর্ণযুগ। তিনি মুক্তচিন্তা, দর্শন ও বিজ্ঞানের গবেষণাকে সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে 'বাইতুল হিকমাহ' (জ্ঞানের গৃহ) নামক একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার, অনুবাদ কেন্দ্র, একাডেমি ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা। সেখানে গ্রিক, পারসিক, সংস্কৃত ও সিরীয় ভাষার বহু মূল্যবান বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদ করা হয় এবং নতুন নতুন উদ্ভাবন সম্ভব হয়।
সুতরাং, শাহরুখের যেমন একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও বিদ্যাচর্চার বিকাশ ঘটেছিল, তেমনি আল-মামুনের 'বাইতুল হিকমাহ' প্রতিষ্ঠা ও বিদ্যানুরাগ ছিল তার সমরূপ ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব। তাই বলা যায়, খলিফা আল-মামুনের কর্মকাণ্ড শাহরুখের কর্মকাণ্ডেরই অনন্য প্রতিফলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও