সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২২

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

আনন্দপুর গ্রামে মৃৎশিল্পীদের বাস। মৃৎশিল্প তাদের ঐতিহ্যবাহী পেশা। এ গ্রামের মৃৎশিল্পীদের তৈরি তৈজসপত্র ও ফুলদানী শহরের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ইদানিং গ্রামে কতিপয় মহাজনদের আনাগোনা লক্ষ করা যায়। মৃৎশিল্পীরা এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছে যে, যেভাবেই হোক তারা তাদের জীবন-জীবিকায় অন্যকে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না।

  1. ক)

    সংঘ কী?

    (1)
  2. খ)

    অবস্তুগত সংস্কৃতি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোচনা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন প্রত্যয়কে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত প্রত্যয়ের সাথে সমাজের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোনো দল গঠন করে, তখন তাকে সংঘ বা সমিতি (Association) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অবস্তুগত সংস্কৃতি বলতে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, মূল্যবোধ, সাহিত্য, সুর এবং গান-বাজনা ইত্যাদি স্পর্শহীন বা বিমূর্ত সামাজিক সৃষ্টিকে বোঝায়। এটি বস্তুগত সংস্কৃতির মতো দৃশ্যমান বা স্পর্শযোগ্য নয়, কিন্তু মানুষের আচার-আচরণ ও সমাজ জীবনকে গভীরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোচনা পাঠ্যবইয়ের সমাজবিজ্ঞানের 'সম্প্রদায়' (Community) প্রত্যয়কে নির্দেশ করে।

    নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী এমন এক মানবগোষ্ঠী, যাদের মধ্যে সামাজিক ঐক্য ও 'আমরা-বোধ' (We-feeling) বিদ্যমান থাকে এবং যারা একটি অভিন্ন জীবনধারায় আবদ্ধ, তাকে সম্প্রদায় বলে। সম্প্রদায়ের প্রধান উপাদান দুটি—নির্দিষ্ট এলাকা এবং সম্প্রদায়গত মানসিকতা বা আমরা-বোধ।

    উদ্দীপকের 'আনন্দপুর' গ্রামের মৃৎশিল্পীরা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বাস করে এবং মৃৎশিল্প তাদের ঐতিহ্যবাহী সাধারণ পেশা। যখন মহাজনদের আনাগোনার ফলে তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে, তখন তারা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে ভৌগোলিক সান্নিধ্য, অভিন্ন পেশা ও পারস্পরিক একাত্মতাবোধ স্পষ্ট, যা সমাজবিজ্ঞানের 'সম্প্রদায়'-এর ধারণাকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রত্যয়টি হলো 'সম্প্রদায়' (Community)। সমাজবিজ্ঞানে 'সমাজ' ও 'সম্প্রদায়'-এর মধ্যে সুস্পষ্ট কিছু পার্থক্য রয়েছে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভূখণ্ডের অপরিহার্যতা: সম্প্রদায়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা থাকা আবশ্যক; নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া কোনো সম্প্রদায় গড়ে উঠতে পারে না। কিন্তু সমাজের জন্য কোনো নির্দিষ্ট এলাকা থাকা অপরিহার্য নয়; এটি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হতে পারে।

    ২. আমরা-বোধ: সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে তীব্র 'আমরা-বোধ' বা সম্প্রদায়গত ঐক্যবোধ উপস্থিত থাকে। অন্যদিকে, সমাজের সদস্যদের মধ্যে এমন প্রত্যক্ষ মানসিক ঐক্য সর্বদা বিদ্যমান থাকে না; সমাজ সামাজিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।

    ৩. পরিধি ও প্রকৃতি: সমাজ হলো একটি বৃহত্তর ও বিমূর্ত প্রত্যয়, যা সকল সামাজিক সম্পর্কের সমষ্টিকে বোঝায়। পক্ষান্তরে সম্প্রদায় সমাজের একটি অংশবিশেষ এবং এটি দৃশ্যমান ও মূর্ত। একটি সমাজের ভেতর একাধিক সম্প্রদায় বাস করতে পারে, কিন্তু একটি সম্প্রদায়ের ভেতরে একাধিক সমাজ থাকে না।

    ৪. সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য: সম্প্রদায়ের ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রধানত মানুষের সাদৃশ্যের (যেমন একই পেশা বা সংস্কৃতি) ওপর। কিন্তু সমাজে সাদৃশ্য ও বৈচিত্র্য উভয়ই থাকে; ভিন্ন ভিন্ন পেশা ও মতাদর্শের মানুষ নিয়ে সমাজ গড়ে ওঠে।

    সুতরাং, সমাজ একটি ব্যাপক ও বিমূর্ত সামাজিক সম্পর্কের জাল, আর সম্প্রদায় হলো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে আবদ্ধ এমন একটি জনসমষ্টি, যা সুদৃঢ় আমরা-বোধ দ্বারা পরিচালিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন