‍ইতিহাস ১ম পত্র • ব্রিটিশ শাসন ও প্রতিরোধ আন্দোলন • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

সনাতন সমাজে সবচেয়ে জঘন্য ও বর্বর প্রথা ছিল 'সতীদাহ প্রথা'। গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময় থেকেই এ প্রথার প্রচলন ছিল বলে মনে করা হয়। গ্রিক ঐতিহাসিক ডায়োডরাস তার খ্রিষ্টীয় প্রথম শতকের লেখায় এ প্রথার বিবরণ দিয়েছেন।

  1. ক)

    কে স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন?

    (1)
  2. খ)

    কলকাতা নগরীর গোড়াপত্তন হয় কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথা বিলোপের সাথে কোন গভর্নর এর নাম জড়িত? তার সামাজিক সংস্কারসমূহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'শান্তি ও সংস্কারের জন্য তার শাসনামল ছিল এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়'- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৬৯০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা জব চার্নক ভাগীরথী নদীর পূর্ব তীরে সুতানুটি গ্রামে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৬৯৮ সালে কোম্পানি সুতানুটি, কলকাতা ও গোবিন্দপুর—এই তিনটি গ্রামের জমিদারি ক্রয় করে। এই তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে কলকাতা নগরী, যা পরবর্তীকালে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানীতে পরিণত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সতীদাহ প্রথা বিলোপের সাথে ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নাম জড়িত। তিনি ১৮২৯ সালে ১৭ নম্বর রেগুলেশন জারি করে অমানবিক সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

    বেন্টিঙ্কের গৃহীত প্রধান সামাজিক সংস্কারসমূহ হলো:
    ১. সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ: রাজা রামমোহন রায়ের সহযোগিতায় ১৮২৯ সালে আইন পাস করে বিধবা নারীদের স্বামীর চিতায় পুড়িয়ে মারা বন্ধ করেন।
    ২. ঠগি দমন: ব্রিটিশ ভারতের রাজপথ ও বিভিন্ন এলাকায় ঠগি নামক কুখ্যাত দস্যুরা নিরীহ পথিকদের হত্যা ও লুণ্ঠন করত। কর্নেল স্লিম্যানের সহায়তায় বেন্টিঙ্ক কঠোর হাতে ঠগিদের দমন করেন।
    ৩. কন্যাশিশু হত্যা ও নরবলি রোধ: সনাতন সমাজে প্রচলিত গঙ্গাসাগরে প্রথম সন্তান বিসর্জন এবং কন্যাশিশু হত্যার মতো কুপ্রথা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের শাসনামল (১৮২৮-১৮৩৫) ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে আগ্রাসী সামরিক নীতির চেয়ে জনকল্যাণ, শান্তি ও সংস্কারের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাই উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    বেন্টিঙ্ক গভর্নর জেনারেল হয়ে সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ পরিহার করে সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও সংস্কারের দিকে মনোযোগ দেন:
    ১. সামাজিক সংস্কার: কুখ্যাত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ, ঠগি ও নরবলি দমনের মাধ্যমে তিনি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেন।
    ২. শিক্ষাসংস্কার: লর্ড মেকলের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৮৩৫ সালে তিনি ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারি স্বীকৃতি দেন এবং কলকাতায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
    ৩. অর্থনৈতিক সংস্কার: ব্যয়ভার কমানো, অর্থব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কোম্পানির অপচয় রোধের মাধ্যমে আর্থিক স্থিতিশীলতা আনেন।
    ৪. প্রশাসনিক সংস্কার: তিনি সরকারি চাকরিতে ভারতীয়দের নিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করেন এবং বিচার ব্যবস্থায় ফারসির পাশাপাশি দেশীয় ভাষার ব্যবহার প্রবর্তন করেন।

    পূর্ববর্তী গভর্নরদের মতো যুদ্ধবিগ্রহে জড়িয়ে না পড়ে তিনি জনকল্যাণমুখী সংস্কারে নেতৃত্ব দেন। ফলে তাঁর শাসনামল শান্তি ও গঠনমূলক সংস্কারের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে স্বীকৃত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন