ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
পলাশীর যুদ্ধ বাংলার ভাগ্যাকাশে এক চরম বিপর্যয় ডেকে। আনে। ১৭৫৭ সালে সংঘটিত এ যুদ্ধে মীরজাফরের শঠতাপূর্ণ আচরণে বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয় ঘটে। এ যুদ্ধে মীরমদন, মোহনলাল যখন প্রাণপণ লড়াই করে নবাবের বিজয়কে সুনিশ্চিত করে তোলেন, তখনই মীরজাফর নবাবকে যুদ্ধ বন্ধ করতে পরামর্শ দেন। নবাব মীরজাফরকে বিশ্বাস করে যুদ্ধ বন্ধ করার ঘোষণা দেন। মীরজাফরের এ বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় ঘটে। ফলে ভারতবর্ষেইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের সূত্রপাত ঘটে।
- ক)(1)
কাকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়?
- খ)(2)
খলিফা সুলাইমানকে 'আশীর্বাদের চাবি' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা। করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধের সাথে ইসলামের ইতিহাসের কোন যুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকের যুদ্ধের মতো উক্ত যুদ্ধের ফলেও। ইসলামের এক নতুন শাসনব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়? যৌক্তিক মত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-কে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খলিফা সুলাইমান তাঁর মৃত্যুর পূর্বে ধার্মিক ও ন্যায়পরায়ণ উমর ইবনে আবদুল আজিজকে পরবর্তী খলিফা মনোনীত করে যান। এই দূরদর্শী ও সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে মুসলিম জাহানে শান্তি, ন্যায়বিচার ও তাকওয়ার এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল। জনগণের কল্যাণার্থে এমন একজন যোগ্য ও মহান ব্যক্তিকে খেলাফতের দায়িত্বে মনোনীত করার কারণে সুলাইমানকে 'আশীর্বাদের চাবি' বা 'মিফতাহুল খাইর' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত পলাশীর যুদ্ধের বিশ্বাসঘাতকতা ও ফলাফলের সাথে ইসলামের ইতিহাসের 'সিফফিনের যুদ্ধ'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সেনাপতি মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান, যার ফলে নিশ্চিত বিজয়ের মুখেও নবাবের পরাজয় ঘটে।
ইসলামের ইতিহাসে ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে খলিফা হযরত আলী (রা.) এবং মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে যখন হযরত আলী (রা.)-এর সেনাপতি মালিক আল-আশতারের নেতৃত্বে আলীর বাহিনী নিশ্চিত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়, তখন মুয়াবিয়ার পরামর্শে তাঁর সেনাদল বর্শার অগ্রভাগে পবিত্র কুরআন বেঁধে শান্তি ও মীমাংসার আহ্বান জানায়। হযরত আলী (রা.) এই ধূর্ত কৌশল বুঝতে পেরেও স্বীয় সেনাবাহিনীর বিদ্রোহীদের চাপে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হন। ফলে নিশ্চিত বিজয় হাতছাড়া হয়ে সালিশির পথ তৈরি হয়। সুতরাং, নিশ্চিত বিজয়ের মুহূর্তে শঠতাপূর্ণ কৌশলের কারণে যুদ্ধের ফলাফল বদলে যাওয়ার দিক থেকে পলাশীর যুদ্ধের সাথে সিফফিনের যুদ্ধের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের পলাশীর যুদ্ধের মতো সিফফিনের যুদ্ধের ফলেও ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন শাসনব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লেখিত পলাশীর যুদ্ধের পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলায় স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূত্রপাত হয়, যা ভারতবর্ষের রাজনৈতিক গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
একইভাবে, ইসলামের ইতিহাসে সিফফিনের যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী সালিশি বৈঠকের ফল ছিল সুদূরপ্রসারী। এ যুদ্ধের মাধ্যমেই খেলাফত ব্যবস্থার অবক্ষয় শুরু হয়। সালিশির পর হযরত আলী (রা.)-এর দল থেকে একদল লোক বের হয়ে 'খারিজী' নামে প্রথম রাজনৈতিক-ধর্মীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী উপদলের জন্ম দেয়। পরবর্তীতে হযরত আলী (রা.)-এর শাহাদাতের পর খিলাফত ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক চরিত্র বিলুপ্ত হয় এবং হযরত মুয়াবিয়া (রা.) কর্তৃক উমাইয়া রাজতান্ত্রিক খিলাফতের প্রতিষ্ঠা ঘটে। এভাবে ইসলামের ইতিহাসে খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শিক গণতান্ত্রিক খিলাফতের সমাপ্তি ঘটে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের সূচনা হয়। অতএব, পলাশীর যুদ্ধের মতোই সিফফিনের যুদ্ধও ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সুদূরপ্রসারী ও সম্পূর্ণ নতুন ধরনের শাসনব্যবস্থার জন্ম দিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও