ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশে সকল ফসল সব ঋতুতে উৎপন্ন হয় না। কিছু ফসল আছে যাদের উৎপাদনের স্থায়িত্বকাল সাধারণত শীত মৌসুম।

  1. ক)

    একটি বাণিজ্যিক ফসলের নাম লেখো।

    (1)
  2. খ)

    গম একটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের শস্য- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঋতুতে উৎপাদিত ফসলের ধরন ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঋতুর সাথে অন্য যে কোনো ঋতুর উৎপাদিত ফসলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি বাণিজ্যিক ফসল হলো পাট (অথবা চা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গম মূলত একটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের শস্য কারণ এর বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য মৃদু তাপমাত্রা এবং পরিমিত বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়। গম চাষের প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫°-২০° সেলসিয়াস এবং পরিপক্ব হওয়ার সময় কিছুটা বেশি তাপমাত্রা (২০°-২৫° সেলসিয়াস) উপযোগী। অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও প্রচণ্ড গরমে গমের ফলন ব্যাহত হয়। এ কারণে নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলীয় দেশগুলোতে গম সবচেয়ে ভালো জন্মায় এবং বাংলাদেশে কেবল শীতকালেই এর চাষ সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শীত মৌসুমে উৎপাদিত ফসল হলো 'রবি ফসল'। বাংলাদেশে সাধারণত কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস (অক্টোবর/নভেম্বর থেকে মার্চ/এপ্রিল) পর্যন্ত সময়কে রবি মৌসুম বলা হয়। এই ঋতুতে উৎপাদিত ফসলের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও ধরন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. কম তাপমাত্রা ও কম বৃষ্টিপাত: রবি মৌসুমের ফসলগুলো শুষ্ক আবহাওয়া ও শীতল তাপমাত্রায় বৃদ্ধি পায়। এ সময় বৃষ্টিপাত খুব কম হওয়ায় ফসল উৎপাদনে সেচের প্রয়োজন পড়ে।
    ২. প্রধান ফসলসমূহ: এ মৌসুমে বোরো ধান, গম, যব এবং প্রধান প্রধান ডাল (যেমন- মসুর, ছোলা, খেসারি) উৎপাদিত হয়।
    ৩. তেলবীজ ও মসলা: সরিষা, তিল, সূর্যমুখী ইত্যাদি তেলবীজ এবং পিঁয়াজ, রসুন, আদা, ধনে ইত্যাদি মসলা এ ঋতুতেই প্রধানত ফলে।
    ৪. শাকসবজি: আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, টমেটো, শিম এবং বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন শাক এই মৌসুমের অন্যতম প্রধান খাদ্য ফসল।
    সুতরাং, উদ্দীপকে কম তাপমাত্রা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় উৎপাদিত রবি ফসলের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঋতু হলো শীত মৌসুম (রবি মৌসুম)। এর সাথে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কৃষি মৌসুম 'খরিপ-১' (গ্রীষ্মকালীন মৌসুম)-এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. সময়কাল: রবি মৌসুম সাধারণত কার্তিক থেকে ফাল্গুন (অক্টোবর-মার্চ) পর্যন্ত বিস্তৃত। অপরদিকে, খরিপ-১ মৌসুম চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ (মার্চ-মে) মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
    ২. জলবায়ু ও আবহাওয়াগত পার্থক্য: রবি মৌসুমে আবহাওয়া থাকে শুষ্ক, শীতল ও মৃদু এবং বৃষ্টিপাত নগণ্য। পক্ষান্তরে, খরিপ-১ মৌসুমে থাকে উচ্চ তাপমাত্রা, প্রখর রোদ এবং মাঝেমধ্যে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিপাত।
    ৩. পানির উৎস ও সেচ ব্যবস্থা: রবি মৌসুমের ফসল সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম সেচ ও মাটির অবশিষ্ট আর্দ্রতার ওপর নির্ভরশীল। তবে খরিপ-১ মৌসুমে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং হালকা সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হয়।
    ৪. ফসলের ভিন্নতা: রবি মৌসুমে প্রধানত গম, বোরো ধান, আলু, সরিষা, মসুর ডাল ও শীতকালীন শাকসবজি উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে খরিপ-১ মৌসুমে বোনা ও রোপা আউশ ধান, পাট, তিল, ভুট্টা এবং গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি (যেমন- পটল, ঢ্যাঁড়শ, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা) ইত্যাদি উৎপন্ন হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, ভৌগোলিক ও ঋতুভিত্তিক পার্থক্যের কারণে রবি এবং খরিপ উভয় মৌসুমেই ফসলের ভিন্নতা দেখা যায়, যা দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিজ বৈচিত্র্য রক্ষা করতে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন