মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ঃদৃশ্যকল্প-২ঃ


- ক)(1)
প্রেষণা কী?
- খ)(2)
আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসাবে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
'দৃশ্যকল্প-১' দৈনন্দিন জীবনের আলোকে ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এর E এবং সামাজিক প্রেষণার মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অভ্যন্তরীণ অবস্থা প্রাণীকে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট আচরণ করতে চালিত বা সক্রিয় করে তোলে, তাকে প্রেষণা (Motivation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবার শিশুর মানসিক বিকাশ ও সামাজিকীকরণের প্রাথমিক পাঠশালা। শিশুরা শৈশবে পরিবার থেকেই আবেগ প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে। বাবা-মা বা অভিভাবকের সহমর্মিতা, সুষম অনুশাসন, স্নেহ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া শিশুকে ভয়, রাগ বা হতাশার মতো নেতিবাচক আবেগগুলোকে উপযুক্তভাবে প্রকাশ ও প্রশমিত করতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের সুষ্ঠু আচরণ অনুকরণের মাধ্যমে শিশু আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ প্রেষণা চক্রের (Motivational Cycle) বিভিন্ন ধাপ দেখানো হয়েছে। এখানে A চিহ্নিত স্থানটি হলো 'অভাববোধ বা প্রয়োজন' (Need) এবং D চিহ্নিত স্থানটি হলো 'উদ্দেশ্য অর্জন বা লক্ষ্যলাভ' (Goal/Satisfaction)।
দৈনন্দিন জীবনের আলোকে দৃশ্যকল্প-১ এর ব্যাখ্যা:
১. অভাববোধ (A): দৈনন্দিন জীবনে শারীরবৃত্তীয় বা মানসিক ঘাটতি দেখা দিলে অভাববোধ তৈরি হয়। যেমন— শরীরে পানির ঘাটতি হলে পিপাসার অভাববোধ বা ক্ষুধা লাগলে খাদ্যের অভাববোধ তৈরি হয়।
২. তাড়না: অভাববোধের ফলে শরীরে এক ধরনের মানসিক ও শারীরিক উত্তেজনা বা চাপ সৃষ্টি হয়, যা তাড়না (Drive) নামে পরিচিত। যেমন— ক্ষুধার ফলে পেটে অস্বস্তি ও খাবারের প্রবল তাগিদ তৈরি হয়।
৩. করণ আচরণ: তাড়নার প্রভাবে ব্যক্তি লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে নানা রকম সক্রিয় আচরণ শুরু করে। যেমন— ক্ষুধার্ত ব্যক্তি খাবার সংগ্রহের জন্য রান্না করা, হোটেলে যাওয়া বা খোঁজাখুঁজি করার মতো আচরণ করে।
৪. উদ্দেশ্য অর্জন (D): করণ আচরণের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু (যেমন— খাবার গ্রহণ করা) অর্জিত হয়। ফলে দৈহিক অভাব মিটে যায়, তাড়না হ্রাস পায় এবং ব্যক্তি সাময়িক তৃপ্তি বা স্বস্তি লাভ করে। এভাবে দৈনন্দিন জীবনে প্রেষণা চক্রটি বারবার আবর্তিত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এর ছকটি লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে প্রেষণাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে— একটি 'সামাজিক প্রেষণা' এবং অন্যটি E চিহ্নিত। সুতরাং, দৃশ্যকল্প-২ এর 'E' হলো 'জৈবিক প্রেষণা' বা 'শারীরবৃত্তীয় প্রেষণা'।
জৈবিক প্রেষণা (E) এবং সামাজিক প্রেষণার মধ্যে পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রকৃতি ও উৎস: জৈবিক প্রেষণা জন্মগত ও শারীরবৃত্তীয় চাহিদার ওপর নির্ভরশীল (যেমন— ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা, যৌনকামনা)। পক্ষান্তরে, সামাজিক প্রেষণা পরিবেশ, সমাজ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত বা শিখনজাত (যেমন— স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা, দলভুক্তির ইচ্ছা, প্রভুত্ব বিস্তার)।
২. অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা: জৈবিক প্রেষণা পূরণ না হলে ব্যক্তির দৈহিক অস্তিত্ব বা জীবন রক্ষা বিপন্ন হয়। কিন্তু সামাজিক প্রেষণা পূরণ না হলে সরাসরি জীবন বিপন্ন হয় না, তবে মানসিক ভারসাম্য ও সামাজিক জীবনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩. পুনরাবৃত্তি ও চক্রাকার রূপ: জৈবিক প্রেষণা নিয়মিত বিরতিতে চক্রাকারে বারবার দেখা দেয় (যেমন— খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আবার ক্ষুধা পায়)। সামাজিক প্রেষণা এমন নির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় ছন্দে বারবার আবির্ভূত হয় না; এটি ব্যক্তির সামাজিক পদমর্যাদা, ক্ষেত্র ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
৪. সার্বজনীনতা: জৈবিক প্রেষণা সমস্ত প্রাণীকুলের মধ্যে সমানভাবে বিদ্যমান। কিন্তু সামাজিক প্রেষণা প্রধানত মানুষের মধ্যেই বেশি দেখা যায় এবং সংস্কৃতি ও সমাজভেদে এর প্রকাশে ভিন্নতা থাকে।
৫. সন্তুষ্টির ধরণ: জৈবিক প্রেষণা দৈহিক তৃপ্তির মাধ্যমে নিবৃত্ত হয়, অপরদিকে সামাজিক প্রেষণা মানসিক তুষ্টি ও আত্মমর্যাদার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও