যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজ • মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    কারণ কী?

    (1)
  2. খ)

    'কারণ ও শর্ত এক নয়'- কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    চিত্রে পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টিকে ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টিকে কি তুমি গ্রহণযোগ্য মনে কর? তোমার মতামত দাও?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে, গুণের দিক থেকে কারণ হলো কার্যের নিয়ত, শর্তহীন ও অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা এবং পরিমাণের দিক থেকে কারণ কার্যের সমান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কারণ ও শর্ত এক নয়, কারণ শর্ত হলো কারণের একটি অপরিহার্য বা অবিচ্ছেদ্য অংশ মাত্র।

    কোনো একটি কার্য সংগঠনের জন্য বহুবিধ অনুকূল ও প্রতিকূল পরিস্থিতি দায়ী থাকে। এগুলোর প্রত্যেকটিকে পৃথকভাবে শর্ত বলা হয়। যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে, কারণ হলো সকল সদর্থক (অনুকূল) এবং নঞর্থক (প্রতিকূল) শর্তের সমষ্টি। শর্ত ছাড়া কার্য সংঘটিত হতে পারে না, কিন্তু একক কোনো শর্ত স্বয়ং সম্পূর্ণ কারণ নয়। সুতরাং, কারণ হলো সমগ্র রূপ এবং শর্ত হলো তার অংশবিশেষ; তাই কারণ ও শর্ত এক নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্রে যুক্তিবিদ্যার 'বহুকারণবাদ' (Plurality of Causes) বিষয়টিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    বহুকারণবাদ অনুসারে, একই কার্য ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বা একাধিক স্বতন্ত্র কারণ দ্বারা উৎপন্ন হতে পারে। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট কার্যের কেবল একটিই কারণ থাকবে এমন নয়, বরং বিভিন্ন কারণ থেকে একই কার্যের উৎপত্তি হতে পারে।

    উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, 'শব্দ' নামক একটি সাধারণ কার্য বিভিন্ন উৎস যেমন—কোকিলের ডাক, ঘণ্টাধ্বনি, হাততালি, মাইক, গাড়ির হর্ন ও বজ্রধ্বনির মাধ্যমে সৃষ্টি হচ্ছে। যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল বহুকারণবাদের অন্যতম সমর্থক। তাঁর মতে, প্রকৃতিতে একই কার্য পৃথক পৃথক কারণে উৎপন্ন হতে দেখা যায়। চিত্রেও শব্দের ক্ষেত্রে একাধিক স্বতন্ত্র কারণ নির্দেশ করায় এটি স্পষ্টভাবে বহুকারণবাদ ধারণাকেই ইঙ্গিত করছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'বহুকারণবাদ' বিষয়টিকে বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য মনে করি না। নিম্নে এর সপক্ষে মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:

    লৌকিক বা সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে বহুকারণবাদকে আপাতদৃষ্টিতে সত্য মনে হয়। কারণ দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় আমরা দেখি শব্দ, মৃত্যু, তাপ বা আলো ভিন্ন ভিন্ন উৎস বা কারণ থেকে সৃষ্টি হচ্ছে, যা উদ্দীপকের চিত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে।

    কিন্তু গভীর বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক বিশ্লেষণে বহুকারণবাদ একটি ভ্রান্ত ও অগ্রহণযোগ্য মতবাদ। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
    ১. কার্যকে সাধারণ অর্থে গ্রহণ: বহুকারণবাদে কার্যকে সুনির্দিষ্ট বা বিশিষ্ট রূপ হিসেবে না দেখে অত্যন্ত সাধারণ বা ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করা হয়। চিত্রে 'শব্দ'কে সাধারণ অর্থে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি নির্দিষ্ট শব্দের বৈশিষ্ট্য ও তীব্রতা ভিন্ন, ফলে তাদের পেছনের কারণও সুনির্দিষ্ট।
    ২. প্রকৃত কারণের অভিন্নতা: পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শব্দের প্রকৃত কারণ হলো মাধ্যমের 'কম্পন'। কোকিলের ডাক, মাইক বা বজ্রধ্বনি যাই হোক না কেন, কম্পন ব্যতিরেকে শব্দ হতে পারে না। সুতরাং মূল বা প্রকৃত কারণ অভিন্ন।
    ৩. কার্যকারণ নিয়মের লঙ্ঘন: বিজ্ঞানের মৌলিক নিয়ম অনুসারে একই কারণ সর্বদা একই কার্য উৎপন্ন করে এবং একটি নির্দিষ্ট কার্যের পেছনে একটিমাত্র সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। বহুকারণবাদ স্বীকার করলে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা ও কার্যকারণ নিয়ম ব্যাহত হয়।

    অতএব বলা যায়, সাধারণ স্থূল দৃষ্টিতে বহুকারণবাদ বাস্তবসম্মত মনে হলেও যুক্তিবিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক সত্যের বিচারে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন